আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

অতিরিক্ত ৪% কর্তন ও মুখোশধারী শিক্ষক নেতা

বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাষ্ট বাবদ ৬% কাটা হয়। হঠাৎ করে ৬% কর্তনের পরিবর্তে আরো অতিরিক্ত ৪% কর্তনের সিদ্ধান্ত ন্যায় শিক্ষামন্ত্রনালয়। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষক সমাজ। স্থগিত করা হয় সেই বিতর্কিত আদেশ।
শিক্ষকদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যান ট্রাষ্টের এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শিক্ষকদের ৬% কর্তনের পরিবর্তে ১০% কর্তন করা হবে। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিক্ষা সচিব মহোদয়, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাষ্ট এর পরিচালনা পর্ষদ। তাদের সবার সম্মতিতে অতিরিক্ত ৪% কর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সভায় উপস্থিত থাকার জন্য তারা সম্মানী গ্রহন করেন। এবার আসি আসল প্রসঙ্গে, এই পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কে? এরা কেউ বর্তমানে শিক্ষক নন এরা অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক। এরা বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ৬% কর্তনেও শিক্ষকরা যা পাবেন ১০% কর্তনেও একই সুবিধা পাবেন। শিক্ষকরা তাহলে কেন এই অতিরিক্ত ৪% টাকা দিবে? শিক্ষকদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হতে থাকে।শুরু হয় অতিরিক্ত ৪% কর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রধান সহ অনলাইনে ঝড় তোলে। অবসর প্রাপ্ত নেতারা অবস্থার বেগতিক দেখে নিজেদের অপকর্ম ঢাকা ও নেতৃত্ব ঠিক রাখার জন্য তারাও ৪% কর্তনের বিরুদ্ধে লোক দেখানো কর্মসূচি দেয়। নামধারী শিক্ষক নেতাদের উপর আর আস্তা রাখতে পারেনা শিক্ষক সমাজ। শিক্ষক সমাজ নিজেরা সংঘবদ্ধ হতে থাকে এবং একদফা “জাতীয়করণ” আন্দোলন শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে অতিরিক্ত ৪% কর্তন স্থগিত করে মন্ত্রণালয়। শিক্ষকরা একদফা আন্দোলন চালিয়ে যায়। নবীন কর্মঠ শিক্ষকদের নিয়ে গঠন হয় বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম। সারা বাংলার শিক্ষকরা সমর্থন দেয়। নবীন একটি শিক্ষক সংগঠন হিসাবে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সর্বকালের সর্ববৃহৎ শিক্ষক সমাবেশ করে। সমাবেশে সরকারকে জাতীয়করণের জন্য ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়। সরকার দাবি না মানলে শিক্ষক বৃন্দ ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি শহিদ মিনারে অবস্থান নিতে চাইলে প্রশাসন বাধা দেয়। শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয়। এই আন্দোলন কে বানচাল করার জন্য নামধারী অবসর প্রাপ্তরা উপজেলা ও জেলা পর্যায় লোক দেখানো কর্মসূচি দিয়ে শিক্ষকদের ঢাকা যেতে বাধা দেয়। শুরু অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি। শিক্ষা মন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের সাথে করেকদফা আলোচনা। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে এবং সামনে এসএসসি পরীক্ষা থাকার কারনে ২৯ জানুয়ারি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
একাদশ নির্বাচন চলাকালীন ১৭ ডিসেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে বেকায়দায় ফেলার জন্য প্রশাসনের ভিতর কিছু কুচক্রী মহল এবং অবসরপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষক নেতা সক্রিয় হয়ে ওঠে। বেসরকারি শিক্ষকদের বিতর্কিত ৪% অতিরিক্ত টাকা কাটার প্রজ্ঞাপন আবার জারি করে এর প্রভাব নির্বাচনে ফেলতে চায়। বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম ছাড়া এর প্রতিবাদ কেউ জানায় নি। ১৭ রাতেই শিক্ষা সচিব মোঃ সোহরাব হোসেন জানান এই আদেশ ভুল ক্রমে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম সিলেট বিভাগীয় শাখা মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম এর সাথে দেখা করে ৪% কাটার বিষয় অবহিত করলে তিনি এটা বন্ধের আশ্বাস দেন। রাতেই শিক্ষামন্ত্রালয়ের ওয়েব সাইট থেকে ৪% কর্তনের আদেশ সরিয়ে ফেলা হয়। ১৪ ই জানুয়ারি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে আবারো ৪% কাটার প্রজ্ঞাপন আবারো জারি হয় এবং এ বিষয়ে শিক্ষা সচিব বলেন শিক্ষক নেতাদের মতামতেই অতিরিক্ত ৪% কাটার সিদ্ধান্ত হয়। অবসর ও কল্যাণের যে দুটি বোর্ড সভায় অতিরিক্ত ৪ শতাংশ চাঁদা কর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সেই বোর্ড সভায় উপস্থিত থেকে শীটে স্বাক্ষর করে মিটিং এ্যালাউন্স গ্রহণ করেছেন কিছু নামধারী শিক্ষক নেতারা। বর্ধিত চাঁদার বিষয়ে প্রথম দুটি পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে, দ্বিতীয় সভা হয় ২০১৬ সালের মার্চ মাসে। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা, স্বাশিপ এর কেন্দ্রীয় নেতা, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা, জাতীয় শিক্ষক-কর্মচারী ফ্রন্টভুক্ত নেতা, অধ্যক্ষ আউয়াল সিদ্দিকী গ্রুপের নেতা, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছিনের নেতা। এরা শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করে নিজেদের মতামত দিয়েছেন। এদের নিজস্ব মতামত বেসরকারি শিক্ষক সমাজ মেনে নেয়নি। এই প্রজ্ঞাপন এর বিরুদ্ধে আবারো ফুঁসে উঠছে শিক্ষক সমাজ। যেকোন মুহূর্তে আসতে পারে কঠোর কর্মসূচি। সকল শিক্ষক যে কোন মুহূর্তে ঝাপিয়ে পড়তে পারে আন্দোলনে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ আপনারা প্রকৃত শিক্ষকদের নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নিন। বিতর্কিত কোন শিক্ষক নেতার সিদ্ধান্ত শিক্ষক সমাজ মানবে না।

নীলকমল হালদার,
সিনিয়র শিক্ষক,
চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়,
পাথরঘাটা, বরগুনা।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ