আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

“অনুপাত প্রথা বাতিল না করে সহযোগী অধ্যাপক মানে তেলা মাথায় তেল”


বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের সর্বোচ্চ পদবী সহযোগী অধ্যাপকে উন্নীতকরণের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অগ্রিম অভিনন্দন। তবে, অনুপাত প্রথার কারনে একই যোগ্যতা সম্পন্ন দুজনের মধ্যে একজন সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপকের মর্যাদা অর্জন করবেন আর অপরজন আজীবন প্রভাষক পদেই বহাল থাকবেন এটি কেমন কথা!  
একজন শিক্ষকের পাঠদানসহ বিভিন্ন গুণাবলী ও কাজের মূল্যায়ন স্বরূপ তার পদায়ন দ্রুত কিংবা বিলম্বিত হওয়ায়টা স্বাভাবিক কিন্তু অনুপাত প্রথার কারণে আজীবনের জন্য একই পদবীতে আটকে যাওয়াটা অস্বাভাবিক। তা মোটেও কাম্য নয়।২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালা এ বিষয়টিকে আরও গুরুতর পর্যায়ে নিয়ে যায়। যেখানে একজন প্রভাষক আট  বছর পূর্তিতে ৯ম গ্রেড হতে ৭ম গ্রেডে উন্নীত হতে পারতেন (২২০০০ টাকা থেকে ২৯০০০ টাকা) এখন সেখানে ষোল বছর পর ৭ম গ্রেডে উন্নীত হবেন। বাংলাদেশে পেশাজীবিদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেখানে বৃদ্ধি পাচ্ছে সেখানে শুধুমাত্র প্রভাষকদের সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে। এমন বেতন বৈষম্য আর কোন পেশায় আছে বলে আমার জানা নেই।বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক থেকে অনুপাত প্রথার মাধ্যমে সহযোগী অধ্যাপক  পদে উন্নীত করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে তা নতুন করে এ বৈষম্যকে আরও বড় বৈষম্যের দিকে ঠেলে দিবে যদিনা অনুপাত প্রথা বাতিল করা হয়। বর্তমান পদ্ধতিতে যিনি সহকারী অধ্যাপক পদে পদায়ন হচ্ছেন উনার সহকর্মীকে বঞ্চিত রেখে,তিনিই যখন আবার একই পদ্ধতিতে সহযোগী অধ্যাপকের পদমর্যাদা পাবেন, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন যাকে বলা যায় তেলা মাথায় তেল। অপরজন শুধু বঞ্চনার স্বীকারই হতে থাকবেন। আকাশ-পাতাল ব্যবধানের এই বৈষম্য নি:সন্দেহে পাঠদানে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। যার প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের উপর। শিক্ষাব্যবস্থায় এমন পরিস্থিতি আমরা কখনও কামনা করিনা।আমরা চাই অনুপাত প্রথা বাতিল করে প্রভাষকদের সুষম সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হোক। মেধাবীরা শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হোক। মেধাবীরা শিক্ষকতায় না আসলে শিক্ষার গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে। যতই মান উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হোক না কেন তা কোনদিন বাস্তব রূপ লাভ করবেনা। কোন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন না ঘটলে সে দেশের মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভবপর নয়।আমরা চাই শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকুক, শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হোক।
লেখক: জহিরুল ইসলাম প্রভাষক (অর্থনীতি)শাহজালাল কলেজজগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ