আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

অর্পিত জ্ঞান নয়,অর্জিত জ্ঞান সমৃদ্ধ প্রজন্ম চাই


দেশের শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন এখন প্রতিটি মানুষের। দেশের বিশৃঙ্খল শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে আমাদের সকলের করণীয় কেমন হওয়া উচিত? প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয় উন্নয়ন অগ্রগতি সম্ভব নয়, অর্থমন্ত্রীর এমনি প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষক অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিট বরণীয় ব্যাক্তিদের উদ্দেশ্য কিছু পরামর্শ তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

** নৈতিক শিক্ষা অর্জনে গুণগত মানের মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
** দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক তৈরি করতে হবে।
** শিক্ষার্থীদের মানবিকতা ও নৈতিক শিক্ষা অর্জনের আগ্রহী করে তুলতে হবে।
** শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী অনুপাত কমিয়ে এনে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
** দেখাদেখি করে লেখা, নকল ও প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
** পরিক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করে যুগোপযোগী উন্নততর পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
** শিক্ষকদের নিয়মিত ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
** অবিলম্বে শিক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
** দেশের প্রকৃত ইতিহাস জানানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম সৃষ্টি করতে হবে।
** শিক্ষার্থীদের বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে এমনি মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
** মেধাবী ও গুণগত মানের শিক্ষক দ্বারা শিক্ষা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
** আধুনিক মানসম্পন্ন সিলেবাস তৈরি করতে হবে।
** যে শিক্ষার মধ্যে চরিত্র-গঠন-মানবিক মূল্যবোধ, প্রতিযোগিতার মনোভাব এবং বিশ্বের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। 
**  শিক্ষকদের সামাজিক বাস্তবতায় উপযুক্ত ও আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা দিতে হবে।
** দেশের ৯৭.৫৪ শিক্ষা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রেখে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। একত্রে সম্ভব না হলে, ধাপে ধাপে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নিতে হবে।
** শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করতে শিক্ষকদের শিক্ষানীতির আলোকে সতন্ত্র বেতন-ভাতা দিতে হবে।
** শিক্ষানুরাগী সুশিক্ষিত সৃজনশীল মনোভাবাপন্ন মেধাবী সৎ আমলাদের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে নিয়োজিত করতে হবে।
** জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সরকারের বাজেট বৃদ্ধি করে নূন্যতম জাতীয় প্রবৃদ্ধির ৫% অথবা বাজেটের ২০% বরাদ্দ দিতে হবে।
** প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত এসেম্বলি ও সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে।
** শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আদর্শ শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
** শিক্ষিত ও শিক্ষা সচেতন ব্যক্তিদেরকে ম্যানেজিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
** শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
** পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করতে হবে।
** শিক্ষক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার মানোন্নয়নে মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
** শিক্ষকদের বদলী ও প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 
** সংক্ষুব্ধ শিক্ষকদের বঞ্চনা বৈষম্য দূরীকরণে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষা আদান-প্রদান একটি জটিল প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে সাবলীল ও স্বাভাবিক থাকা আবশ্যক। শিক্ষকরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতির বিবেক। শিক্ষকরাই তৈরি করবেন আগামী প্রজন্মকে নৈতিকতা সম্পন্ন উন্নত জাতি হিসেবে। আর গুনগত মানের শিক্ষায় আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলবে স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে সর্বাগ্রে শিক্ষকদের জীবন মানের উন্নয়ন প্রয়োজন। আগামী দিনের সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে উন্নত মানের মেধাবী আদর্শ শিক্ষক খুবই প্রয়োজন। শিক্ষকরা জন্মগ্রহণ করে না, পর্যাপ্ত ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করে নিতে হয়। গুণগত মানের শিক্ষকরাই পারেন যুগের চাহিদা অনুযায়ী গুণগত মানের নৈতিকতা সম্পন্ন মানবিক মানুষ তৈরি করতে।

শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীর আচরণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনয়ন করা। সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীর আচরণিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে। খেলাধুলা, আবৃত্তি, নাটক, সংগীত অনুষ্ঠান শিক্ষা শিক্ষার্থীর, আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষায় আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করে। সহশিক্ষা শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করে। একে অপরের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করে। জানার আগ্রহ ও মানসিকতা সৃষ্টি হয়। ভাবের আদান প্রদানের মাধ্যমে মানবিক বন্ধন সৃষ্টি হয়, বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সাহস যোগায়। শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবই কেন্দ্রিক শিক্ষা নয়, ব্যক্তিত্বের বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক ও জ্ঞানার্জন শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের অর্পিত জ্ঞানের চেয়ে অর্জিত জ্ঞানের প্রতি অধিক মনোযোগী হওয়া জরুরি।

শিক্ষকদের প্রাইভেট কোচিং কেন্দ্রিক শিক্ষা থেকে ফিরে এসে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার প্রতি অধিকতর মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক এবং সরকারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকা যেমনি গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শিক্ষকদের জীবন মানোন্নয়নে আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা প্রদান করাও ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জনাব প্রফেসর ডঃ সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক একজন প্রকৃত স্বজ্জন শিক্ষানুরাগী সুশিক্ষিত ব্যক্তি। এমনি  বিচক্ষণ, মেধাবী ও সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের বেছে বেছে শিক্ষা বিভাগে নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন। সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকগণ ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর যথেষ্ট ভূমিকা পালন করা উচিত। বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের পক্ষ থেকে স্যারকে অনুরোধ করেছি, শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান মর্যাদা ও আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা দিন, শিক্ষকরা শিক্ষার মানোন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। শিক্ষকদের অমর্যাদা, অসচ্ছল ও অভুক্ত উদরে রেখে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব। দেশব্যাপী শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের মেধাবী শিক্ষকরা শিক্ষার মানোন্নয়নে মনে প্রাণে নিবেদিত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ইনশাআল্লাহ।

মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ