আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :
«» নৈতিকতা ও সামাজিক অবক্ষয়ে চাই ধর্মীয় নৈতিক মূল্যবোধ অটুট রাখা «» অরিত্রির শিক্ষক হাসনা হেনার জামিন «» বড় জয়ে সিরিজ শুরু টাইগারদের «» চান্দিনা মাতৃভূমি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে বীরের কণ্ঠে বীর কাহিনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন «» চান্দিনা মাতৃভূমি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি চারণমূলক বীরের কণ্ঠে বীরত্বের কাহিনী অনুষ্ঠিত «» সজিব পাতায় শিশির ভেজা নিংড়ানো ভালবাসায় গ্রামীণ জনপদ «» নরসিংদীর শিবপুরে ২ বাসের সংঘর্ষে নিহত ৪ আহত ২০ «» ভিকারুননিসার নতুন অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম «» ব্রহ্মচারী শ্রী শ্রী সুবোধ চাঁদ ঠাকুরের শেষকৃত্য সম্পন্ন «» স্কুল পড়ুয়াদের মোবাইলের অপব্যবহারের জন্য মূলত কারা দায়ী?

আর কতো প্রহসন বেশিকদের সাথে!

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৯৫ ভাগ বেসরকারি। এই ৯৫ ভাগ শিক্ষকদের বঞ্চিত রেখে শিক্ষার কাংখিত মান আশা করা যায় না। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ার কারিগর এই শিক্ষকরা। এদের বঞ্চিত রেখে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব না।
বেসরকারি শিক্ষকদের সাথে ছুটি নিয়ে চলছে প্রহসনের খেলা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৮০ দিন ছুটি থাকলেও তা ভোগ করা যায় না। ছুটির তালিকায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবস, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, বাংলা নববর্ষ, জাতীয় শোক দিবস ও বিজয় দিবস আছে অথচ এই দিবস গুলিতে প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠান করতে হয়। এই দিবস গুলি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষকদের সাথে এক ধরনের প্রহসন করা হচ্ছে। শুধু এখানেই শেষ নয় মন্ত্রণালয় গ্রীষ্মকালীন ছুটি, রমজানের ছুটি, শীতকালীন ছুটির সময় বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন। সরকারি বিভিন্ন আদেশের বলেও বিদ্যালয় খোলা রাখা হয় ছুটির মধ্যে । আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রবারণা পূর্নিমা ও শ্রী শ্রী লক্ষী পূজা ছুটি থাকার কথা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে এক আদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজয় ফুল তৈরি, রচনা প্রতিযোগিতা,
আবৃতি, চিত্রাংকন সহ বিভিন্ন আয়োজন করতে বলা হয়েছে। যার ফলে বিদ্যালয় ছুটির মধ্যেও দুই দিন খোলা রাখতে হবে। অন্যদিকে ২৭ অক্টোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় পূজা সেইদিন বিদ্যালয় খোলা রাখায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ছুটির তালিকা প্রনয়ণকারী এবং ছুটির মধ্যে কোন অনুষ্ঠান পালনের নির্দেশকারীদের এইসকল দিক বিবেচনায় রেখে ছুটির তালিকা প্রনয়ণ করা উচিত।
সর্বশেষ পেস্কেল ঘোষণা অনুযায়ী যারা পেস্কেলের অন্তর্ভুক্ত তাদের বার্ষিক ৫% ইনক্রিমেন্ট দেবার কথা সেখানেও বেশিকদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বৈশাখী ভাতা থেকেও বঞ্চিত বেশিকগন। বিভিন্ন সময় সরকারের দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিরা নানা রকম আশ্বাস দিয়ে আসছেন কিন্তু তা আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে শিক্ষকদের মনে। বেশিকরা আর কারো আশ্বাসে বিশ্বাস রাখতে পারছে না। বেশিকদের মনে ক্ষোভের সঞ্চয় হয়েছে। যে কোন সময় এর বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। যদি বিস্ফোরণ ঘটে তা বর্তমান সরকারের জন্য মোটেও মঙ্গল জনক না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি “মানবতার মা” আপনি বিক্ষিপ্ত ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করন করছেন যা সেই সাফল্যের কথা সাধারন মানুষের কাছে পৌছায় না। আপনি বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা এক সাথে জাতীয়করণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিন। পাঁচ লক্ষ বেশিক আপনার সাথেই থাকবে। বেশিকদের ক্ষোভকে বিস্ফোরিত হতে দিবেন না। আপনার শরীরে বইছে জাতির জনকের রক্ত, আপনিই পারবেন শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের মতো মহৎ উদ্যোগ নিতে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগেই আপনি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণা দিন। বেশিকরা আপনাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে।

লেখকঃ নীলকমল হালদার
শিক্ষক ও নিজস্ব প্রতিনিধি
শিক্ষার কন্ঠস্বর।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ