আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :
«» ঝিকরগাছা শংকরপুরে জাতীয় শোক দিবস পালিত «» প্রশ্ন ফাঁস: জনতা ব্যাংকের পরীক্ষা ফের নেওয়ার নির্দেশ «» ভুটানকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা «» অটলবিহারী বাজপেয়ী আর নেই «» হোমনা-তিতাসে অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ নেতৃত্বে শতাধিক শোক দিবস অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ «» বেসরকারি শিক্ষকদের ঈদ উৎসব «» কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ «» সিন্ডিকেটের খপ্পরে ১৩৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প «» সাংবাদিক পরিবারে ১ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নরসিংদী-৪ আসনের এমপি «» “শিক্ষাবিস্তার ও বেকারত্ব হ্রাসে কিন্ডারগার্টেনের অবদান”

উপন্যাসঃ”উদভ্রান্ত প্রেম”পর্বঃ৪৯- শিক্ষার কণ্ঠস্বর

উপন্যাসঃ”উদভ্রান্ত প্রেম”পর্বঃ৪৯
লেখক,কমলকান্ত রায় তালুকদার

রাত নয়টা বাজছে।কমল রাতের খাবার শেষ করে মিতুদের বাড়িতে পড়বে ও পড়া শেষ করে ঘুমাবে বলে রওয়ানা দেয়।রাতের খাবার খাওয়ার সময় কমলের দাদামনি নগেন্দ্র দাদা কমলকে অনেক কথা বলেছেন।কথাগুলি মূল বিষয় একটাই,মিতুদের বাড়িতে কিভাবে থাকতে হবে,কমলের পক্ষে মিতুদের বাড়িতে কেমন ভাবে থাকলে দাদামনির মান-সম্মান ক্ষুন্ন হবে না ইত্যাদি নানা প্রয়োজনীয় উপদেশ।
ওদের বাড়িটি যে একটা পেঁড়ো বাড়ি।মিতু ও মিতুর মা ও মিতুর বড়ভাই সুরুজ ভাই।এই তিনজন প্রাণীর বাস।আর কাজের মেয়ে নাজু এ গ্রামেই তার বাড়ি।তার সারাদিনের কাজ শেষ হলে,সন্ধ্যার পূর্বেই সে তার নিজ বাড়িতে চলে যায়।মিতুর এক চাচা মাঝেমধ্যে তার মায়ের সাথে গল্প-গুজব করে।তার চাচাও সন্ধ্যারাতেই তার বাড়ি চলে যান।আবার সুরুজ ভাই প্রায়ই কাজ-কর্ম করতে বুরুঙ্গা,শেরপুর,সাদিপুর ইত্যাদি অঞ্চলের তার ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ফার্নিচার কাঠের ডিজাইনের কাজ শিখতে চলে যান।সুরুজ ভাইয়ের কাজ শেখা শেষ হলে তিনিও নাকি আগামী বছরে তার বড়ভাই ও তার আব্বার কাছে সৌদিআরব চলে যাবেন প্রবাস জীবনে।
আজ মিতুদের বাড়িতে কমলের রাত যাপনের প্রথম রাত।কমল মিতুদের দরজায় কড়া নাড়ছে।মিতু দরজা খুলল।রোমে প্রবেশ করে কমল অবাক।মিতু এ রোমে একা।মিতুর মা ঘুমিয়ে পড়েছে।মিতু দরজা বন্ধ করে পড়তে বসেছে।একই টেবিলে দু’জনই পড়ছে।ঘন্টা খানিক পরে মিতু ফ্লাক্স থেকে চা ঢালছে।মিতুদের পাকা ঢালাই ঘরে এখনও শীতের প্রভাব পড়েনি।মিতুর গায়ে হালকা সেমিজ।গায়ে ওড়না নেই।একটা সুগন্ধি পারফিউম এর গন্ধে চারপাশ ভরে গেছে।কমলের এই মুহুর্তে পল্লবীকে মনে পড়ছে।পল্লবীর যমজ বোনের মত মিতু।সত্যি দিনের মিতু থেকে রাতের মিতুর অনেক তফাৎ।মিতুর গভীর আয়ত ডাগর দু’টি চোখের চাহনি দেখে কমল অগ্রহায়ণের শীতের রাতেও যেন কমল ঘেমে যাচ্ছে।তার বুকে একটা চিনচিন ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে।কমলের চোখের নজর পড়ছে ক্রমশ মিতুর বুকের উপর ঝুকে পড়েছে।অনেক দিন আগে ফেলে আসা পল্লবী ও কমলের ভালবাসার ক্রৌঞ্চমিথুন দ্বীপে পাকা দু’টি ডালিম ফলের উপর।কমলের মনে পড়ছে প্রথম যেদিন পল্লবীর যুগলতারায় তার হাত পড়েছিল।সে রাতে পল্লবীর যেমন পা দু’টি টলছিল তেমনি আজকেও মিতুর পা দু’টি টলছে।কিন্তু এ ভাবনাতো এক ধরনের অন্যায়,পাপ।কারন মিতু যে তার ছাত্রী।সে যে তার শিক্ষক এবং ছোট বোনের মত।মিতু যে তাকে দাদা বলে সম্বোধন করে।তবুও কমলের আজ নিজেকে শক্ত হওয়ার প্রয়োজন।তবে সে যে কেবলি ভাবছে,কেন যে বিধাতা পল্লবীর চেহারার আদলে মিতুর চেহারার মিল দিলেন?এ কঠিন পরীক্ষা থেকে কিভাবে যে নিজেকে সংযত রাখতে পারবে,সে চিন্তাটা কমলকে দিন-রাত আরো উদভ্রান্ত করে তুলেছে।দিনের আলোতে মিতুকে পল্লবীর চেহারার অবয়বে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও রাতের সিগ্ধতায় তা আরো অভিন্ন রুপ লাভ করেছে।কমলের মনে হলো,বিধাতা কমলকে এ কঠিন পরীক্ষায় ফেলে অন্তরীক্ষ থেকে হাসছেন।হ্যাঁ,কমলকে এ পরীক্ষায় জয়ী হতেই হবে।
…দাদা,চা পান করেন।
…এত রাতে চা কোথায় পেলে?
…দাদা,তুমিই নাকি একদিন আম্মাকে বলেছিলে,”গভীর রাতে পড়তে হলে চা পান করলে নাকি ঘুম আসে না,তাই আমার আম্মা তোমার জন্যে ফ্লাক্সে চা তৈরি করে রেখেছেন।এই প্লেটে বিস্কুট আছে খেয়ে নিন”।
…একটু আগেই তো ভাত খেয়ে আসলাম।বিস্কুট খাব না।
…অন্ততপক্ষে দু’টি বিস্কুট নিন দাদা!
…আচ্ছা মিতু তোমার সংঙ্গে পড়ে তোমার দুই ঘনিষ্ট বান্ধবী কে কে?
…কেউ কিছু বলেছে না কি?
…হ্যাঁ,বলেছে।অনুমান করে বলতো কে বলতে পারে?
…দুই বান্ধবীর মাঝে কেউ বলেছে নাকি অন্য কেউ?
…দুই বান্ধবীর মাঝে কে বলতে পারে,অনুমান করে বলতো?
…আমার মনে হয়,আলপনা।
…ঠিক আছে।আলপনা বলেছে।
…কি বলেছে?কখন বলেছে?
…এই তো সপ্তাহ খানেক পূর্বে আলপনাদের বাড়িতে এক সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।আসলে আমি জানতাম না।মেজদা নিখিলদা আমাকে বেড়ানুর কথা বলেই তোমার বান্ধবীর বাড়িতে নিয়ে যায়।
…তারপর কি হলো দাদা?
…তারপর চা খতে গিয়ে,আলপনা তোমার সম্পর্কে বলছে,মিরা সম্পর্কে বলেছে।
…তারপর সংগীত সন্ধ্যাটি কেমন হয়েছিল?
…এ সংগীত সন্ধ্যা সম্পর্কে তোমাদের তিনজনের মধ্যে অনেক আলাপ হয়েছে,তাই না?
…জ্বী,ঠিক বলেছেন দাদা।
…এখন আর কথা নয়।তোমার ঘুম এলে রোমে গিয়ে ঘুমিয়ে পর।আমার আগামীকাল একটা টিউটিরিয়েল পরীক্ষা আছে।কোন টেনশন নিও না।রাত ১১টা বাজছে।আগামীকাল তোমার সাথে কথা হবে।
মিতু কথা না বাড়িয়ে নিজের বেড রোমে চলে গেল।মিতুর মুখটি গম্ভীর।তবে যাবার সময় সে আবার তার কমলদার বিছানাটি পরিপাটি করেছে।যেমন আপন আত্মীয় পরিজন বাড়িতে এলে তার প্রতি যেমন দায়িত্ববোধ থাকে তেমনি মিতু তার কমলদার টেবিল,বিছানা পত্র সবকিছুই নিজ হাতে সাজিয়েছে।সবশেষে একটি মেরিল পেট্রলিয়ামের ছোট কৌটা,একটা চার্জ লাইট,এক জগ খাবার পানি,একটি কাঁচের গ্লাস টেবিলে রেখে গেলো।মিতুর রোম থেকে তার পড়ার রোমের মাঝখানে একটা খোলা পথ।পথটিতে কোন দরজা নেই।কেবল একটা কাপড়ের পর্দা দেয়া।ঘরের এ দৃশ্যটি কমল ইতিপূর্বে কখনও দেখেনি।মিতুর মা এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।তার নাকের আওয়াজ শুনা যাচ্ছে।মিতু তার কমলদাকে বাথরুমের রাস্তা চিনিয়ে দিল।মিতুর বেড রোমের পাশেই বাথরুম।মিতুর বর্তমান মুখের অবয়বে পল্লবীর অভিমানী চোখের রেখা ফুটে উঠেছে।কমলের মাঝেমধ্যে ইচ্ছে হয় তার দাদামনিকে বলে মিতুকে পড়ানুর দায়িত্বটা ছেড়ে দেবে।মিতুর চেহারাটা দেখলেই কমল আজকাল রীতিমত আঁতকে উঠে।এই বুঝি তার প্রিয়তমা পল্লবীর সংঙ্গে দেখা হলো।এটা কেমন যন্ত্রনা,কেমন অসহ্য ব্যাথা তা কেবল কমলেই জানে।আর এখন গভীর রাতেও মিতুর সংঙ্গে দেখা হয়,কথা হয়।আবার কমল ভাবে পল্লবী চেহারার সাথে মিতুর চেহারার মিল,একি তার জন্যে অভিশাপ!নাকি হারিয়ে যাওয়া একটা যন্ত্রনার কাতর ব্যাথা।মাঝেমাঝে কমলের ইচ্ছা জাগে এ যন্ত্রনা থেকে পরিত্রাণের পথ খোঁজে।সে এ থেকে রেহাই পেতে চায়।মুক্তি পেতে চায়।এ বিষয়টি মিতুর কাছেও শেয়ার করা যায় না।তাহলে কি করবে কমল।এ ভাবনাটা এ ক’দিন ধরে কমলকে খুবই ভাবিয়ে তুলেছে।যদি বন্ধু ভেবে মিতুকে সব কিছুকে শেয়ার করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়।তবে এর কেসারত দিতে গিয়ে যদি আবার নতুন করে কমলকে আবার মিতুর নারীত্বের মায়া-মমতায় পড়ে কামিনী কাঞ্চনের পড়ে।না কমলকে শক্ত হতে হবে।আরো শক্ত হতে হবে।মিতুকে বুঝতে দেয়া যাবে না কমলের প্রিয়া পল্লবীর সংঙ্গে মিতুর চেহারার মিল আছে।তাই কমল ভাবছে তার প্রবাস জীবনে মিতু ও তার প্রিয়ার অভিন্ন চেহারার রহস্য যেন রহস্যই থেকে যায়।কোনভাবেই এর বহির্প্রকাশ সম্ভব নয়।তাহলে তার ডিগ্রি পড়ার স্বপ্ন চিরতরে যে ধবংস হয়ে যেতে পারে।আজ তাই মিতু ও কমলের মধ্যে কথা জমে ওঠার পূর্বেই কমল মিতুকে ঘুমাতে যাবার নির্দেশ দিয়েছে।কমল আরো ঘন্টা খানেক পড়ালেখা করে ঘুমাতে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।না কিছুতেই কমলের ঘুম আসছে না।কমলের মনের ভাবনাগুলি আজ আবার নতুন করে ঘুরপাক খাচ্ছে।তার দাদামনির বাড়ি তৈরি হতে আরো তিনমাস প্রয়োজন। আর এ দীর্ঘ সময় মিতুদের বাড়িতে পড়ালেখা করা কেমন যেন কমলের অস্বস্তিকর লাগছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ