আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :
«» ঝিকরগাছা শংকরপুরে জাতীয় শোক দিবস পালিত «» প্রশ্ন ফাঁস: জনতা ব্যাংকের পরীক্ষা ফের নেওয়ার নির্দেশ «» ভুটানকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা «» অটলবিহারী বাজপেয়ী আর নেই «» হোমনা-তিতাসে অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ নেতৃত্বে শতাধিক শোক দিবস অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ «» বেসরকারি শিক্ষকদের ঈদ উৎসব «» কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ «» সিন্ডিকেটের খপ্পরে ১৩৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প «» সাংবাদিক পরিবারে ১ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নরসিংদী-৪ আসনের এমপি «» “শিক্ষাবিস্তার ও বেকারত্ব হ্রাসে কিন্ডারগার্টেনের অবদান”

উপন্যাসঃ”উদভ্রান্ত প্রেম”পর্বঃ৫১ -শিক্ষার কণ্ঠস্বর

উপন্যাসঃ”উদভ্রান্ত প্রেম”পর্বঃ৫১
লেখক,কমলকান্ত রায় তালুকদার

কমল কলেজ থেকে ফিরে এসে হাজী নসিবউল্লাহ মার্কেটের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী পল্লবীকে পড়াতে যায়।ঘন্টা-খানেক পড়া শেষেও চা এল না,কমল লক্ষ্য করছে,বাসায় তার ছাত্রীটির মায়ের দেখা পাচ্ছে না।কমল মনে মনে ভাবছে,তাহলে কি পল্লবীর মা আজ বাসায় নেই,নাকি ঘুমাচ্ছেন।কমল তার এই পল্লবী ছাত্রীটিকে পড়া বুঝানুর জন্যে প্রয়োজনীয় কথা বলা ছাড়া তেমন কথা বলেনি।এর আর একটা কারনও আছে।সে কারনটি হলো,ছাত্রীটি বেশ মোটা হলেও কন্ঠস্বর একদম চিকন।এত আস্তে কথা বলে যে,মনে হয় গায়ের জোর নেই।
…কি ব্যাপার পল্লবী,কাকীমা,পল্টু কাউকে যে দেখতে পাচ্ছি না।
…আজ্ঞে স্যার।আজ এই মুহুর্তে আমার মা ও ছোট ভাই পল্টু কেউ বাসায় নেই।আপনি আমাদের বাসায় আসার ঘন্টাখানেক আগে আমার তাপস মামা তাদের নিয়ে গেছে।এতক্ষনে হয়তো তারা হবিগঞ্জে আমার মামার বাড়ি পৌঁছে গেছে।
…ঠিক আছে,তাহলে আমি আজ উঠছি।
…ডাইনিং রোমে চলুন স্যার।মা তো আপনার জন্যে খাবার তৈরি করে গেছেন।চলুন,ভাত খাবেন।মা আপনার জন্যে ফ্লাক্সে চা রেখেছেন,চা পান করবেন,তারপর যাবেন।
…ঠিক আছে চল।
আজকের খাবারের রান্নার স্বাদ বেশ উন্নতমানের।খাবার শেষে পায়েশটি বেশ অসাধারন।পল্লবীর মামা তাপস রায় হবিগঞ্জ কলেজের নামকরা একজন সাইকোলজির প্রভাষক।আজকের খাবারের স্বাদ-আস্বাদন করতে গিয়ে কমলের বার বার মনে হচ্ছে তার প্রিয়তমা পল্লবীর প্রভাবতী মায়ের হাতের রান্নার মতোই যেন মনে হচ্ছে।সত্যি আজকের চা-তে দুধের পরিমানও অন্যদিনের তুলনায় একটু বেশী।চায়ের সংঙ্গে বেশ কয়েক প্রকারের পিঠে।
পিঠে খেতে গিয়ে কমলের মনে হল পৌষ পার্বনের পিঠা-পায়েশের কথা।মোহনগঞ্জের ভারেরার তার মাসির দেবরের কণ্যা পল্লবীর কথা।
সেই পৌষ পার্বনের পূর্ব রাত।বিগত দু’ বছরের পূর্বে দিনটির কথা আজকের পল্লব কি করে অতিথের কমল রায়কে ভুলতে পারবে?পল্লবীর ভালবাসার পরশ পাথরের ছুঁয়ায় কমল রায় পল্লব ছদ্মনাম ধারন করেছে।পল্লবীর মা অথ্যাৎ পল্লবের বড়কাকী মায়ের স্নেহের হাতের বানানু পিঠে,পায়েশ,মিষ্টান্ন খেতে পল্লবীর সংঙ্গে লুকোচুরি খেলা।পৌষ পার্বনের শেষ রাতে শীতের হিমেল ঠান্ডায় স্নান করা।আগুনে তা দিয়ে ধর্মীয় রীতি রক্ষা ও নিজেদের শীতের হাত থেকে রক্ষা করা।নতুন কাপড় পরে সকালে চিড়া-মুড়ি খেতে গিয়ে মুড়ি ছিটিয়ে শরীরের ভেতরের কাপড়ে খুঁজতে থাকা।কখনও নরম কখনও মচমচে স্বাদ।শ্রী পঞ্চমীতে স্বরসতী পূজায় রাত জাগা।পুজার দিন শাড়ী পরে পল্লবী সলাজ নয়নে মন্ডপে আসতো।পল্লবের সংঙ্গে পল্লবী যুগলে স্বরসতী মাকে অঞ্জলী দিত।নতুন কাপড় পড়ে সকলকে প্রনামের সংঙ্গে সংঙ্গে পল্লবী তার প্রিয়তম পল্লব দাদাকেও প্রনাম করতো।নিজের সর্বশ্রেষ্ট সম্পদ যৌবনের শ্রেষ্ট আহ্বানে একে-অপরকে সাড়া দিত।মন্দিরের পেছনের বেদীমুলে বসে পল্লবের উরুযুগল সন্ধিতে মাথা রেখে সারাটা রাত ভ্রমর-ভ্রমরীর মতো গুনগুন স্বরে গান গাওয়া কি করে ভুলবে পল্লব সে প্রেম অভিসারের দিনরাত।
কমলের আরো মনে পড়ে,একদিন কমল তার পড়ার ঘরের চাবির জোটায় একটি জ্বলন্ত সিগারেটের আদলে তৈরি স্টিক মোহনগঞ্জের লক্ষ্মীস্টোর থেকে কিনে এনেছিল।এটি হাতে দেখে সিগারেট ভেবে পল্লবী পল্লবের হাত থেকে তা কেড়ে নিতে চেয়েছিল।তখন পল্লবী পল্লবকে জড়িয়ে ধরেছিল।আর তখন পল্লবীর স্তন যুগলে বন্দী হয়ে দু’জনের শরীর শিউরে উঠেছিল।সেদিন থেকে সন্ধ্যায় পড়ার ছলে দু’জনের শরীরের ক্ষুধা প্রায়ই বেড়ে উঠতো বার বার।পল্লবের এ বেহায়াপনা আকর্ষনে পল্লবী বাঁধা দিত না।পড়ার টেবিলের নিচ দিয়ে আলতুভাবে শরীরের উঁচু ঢিবিতে চারা গজানু গাছের কুঁড়িতে হাতছানির ক্রিয়াদি মন্তনে নিঃশব্দে কেবল দু’জনের চোখে চোখে দেখা-দেখি,বলা-বলি।কখনও বা ভাঙ্গা ঘুমের ঘুরে সুখ তাঁরার আলো জানালায় উঁকি দিত চিরকুটের পাতায়।চিরকুটের লেখা ক্রমে লম্বা হলো।এল নৌকার ভাঁজে নীলখামে প্রেম-পত্র।জানালার কার্নিশে রাখা পত্র অন্ধকারে খুঁজে নিত দু’জনেই।
একদিন কথা বলার সুযোগ না হলে
মনের কথাগুলি লিখে একে-অপরকে জানাইতো।তখন পাড়ায় কারো ঘরে টিলিভিশনের বালাই ছিল না।মাঝে মাঝে কেউ সৌখিনের বশে পড়ে দু’একটা রেডিও ও টেপরেকর্ডার বাজাতো।তবে রাতের বেলায় আরব্য রজনীর গল্প,শুক-সারির গল্প শুনার প্রচলন তখনও ছিল।পল্লবী গানের মাষ্টার মধ্যনগরের সৌমিত্র সরকার সন্ধ্যা বেলায় গান শেখাত।আবার রাতের খাবারের পর বাড়ির সবাই সৌমিত্র সরকারের গল্প বা কেচ্চা শুনত।অন্ধকারে কেচ্চা শোনার জন্য পল্লব ও পল্লবী একসাথে বসতো।কেচ্চার কাহিনী শুনতে শুনতে দু’জন একে-অপরের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠতো।সৌমিত্র সরকার কাকুর এক-একটা উপন্যাসের কাহিনী শুনতে অন্ধকারে পল্লব-পল্লবীর হাতে হাত রাখতো।অন্ধকারে ছুঁয়া কখনও কখনও হৃদয়ের ভাঁজে ভাঁজে মিলে যেত।
কমল আজ ভাবছে,গোয়ালাবাজার এসে তার দাদামনি নগেন্দ্র দাদার
মাধ্যমে যে দু’টি প্রাইভেট ছাত্রী পেয়েছে,তাদের মধ্যে মিতু ও পল্লবী।মিতুর সাথে তার প্রিয়তমা পল্লবীর চেহারার মিল রয়েছে আর হাজী নসিবউল্লাহ মার্কেটের ৯ম শ্রেণীর সাথে পল্লবীর নামের মিল রয়েছে।হায়রে বিধাতা!কেন যে কমলের প্রবাস জীবনেও পল্লবীর কোন স্মৃতিই সে ভুলতে পারছে না।
আস্তে আস্তে পায়ে হেঁটে কমল গোয়ালাবাজারের হাজী নসিবউল্লাহ মার্কেট থেকে গ্রামতলা রোডে তার লজিং বাড়ির দাদামনির লাক ফার্ণিচার দোকানে এসে মমতা লন্ডির ঠাকুরদার নিকট জানতে পারে,আজকের ডাকে কমলের একটি চিঠি এসেছে।দাদামনি নাকি তখন দোকানে ছিলেন না।মেজদা নিখিলদার হাতেই নাকি পোষ্ট অফিসের পিয়ন একটি পত্র দিয়েছেন।এখন নিখিলদা দোকানে নেই।নিখিলদা নাকি স’মিলে কাঠ চিড়ানুর কাজে চলে গেছে।দাদামনি ও কমল টেবিলের ড্রয়ার,সুক্যাশের ড্রয়ার,ষ্টিলের আলমারী সহ বিভিন্ন ড্রয়ারে খুঁজেছে কিন্তু কোথাও খুঁজে পায়নি।অগত্যা দাদামনি কমলকে ঘন্টাখানেক দোকানে বসার কথা বললেন।ঘন্টা খানেক পড়ে নাকি নিখিলদা স’মিল থেকে ফিরবে।কিন্তু এদিকে মিতুকে বিকালে পড়ার সময় হয়ে এল।কমলকে যে এখনই বড় ইসবপুর ফিরতে হবে।না বেশী দেরী হয়নি।কিছুক্ষণ পরেই নিখিলদা দোকানে ফিরে এলেন।স’মিলে বিদ্যুতের লাইনে সমস্যার জন্যে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।কমল তার মেজদা নিখিলদাকে আজকের ডাকের পত্রের কথা বললে সে জানালো,সে নাকি স’মিলে যাওয়ার পথে মিতুর ভাই সুরুজের দেখা পায়।সুরুজ ভাই বাড়িতে যাচ্ছে।সুরুজ ভাই বিকেলে খেয়ে তার কাজের সাইড শেরপুরে চলে যাবে।তাই নিখিলদা সুরুজ ভাইকে পত্রটি বেলা ৩ টার দিকে দিয়েছে যেন সে পত্রটি বিকেলেই কমলের হাতে অথবা মিতুর হাতে পৌঁছে দেয়।আসলে কমলের নিখিলদা ভেবেছিল,প্রত্যেক বিকালে ও রাতে যেহেতু কমল মিতুদের বাড়িতেই থাকে,তাই পত্রটি দোকানে বা শার্টের পকেটে না রেখে মিতুর নিকট পৌঁছে দিলেই তা সবচেয়ে নিরাপদ হবে।অগত্যা কমল একটা রিস্কা নিয়ে মিতুদের উদ্দ্যেশে রওনা দেয়।কমল ভাবছে তাকে কে পত্রটি দিয়েছে।তার ভাই বন্ধু তো গত সপ্তাহেই পত্র দিয়েছে।তার উত্তরও সে দিয়ে দিয়েছে এবং সাধনের পত্রের ভেতরে পল্লবীকেও একটি পত্র দিয়েছিল।পল্লবীর পত্রে কমল তার এককপি ছবি দিয়েছিল এবং পল্লবীর এককপি ছবি পাঠানুর কথা লিখেছিল।সাধনের পত্রের উত্তরে কমল তার ছাত্রী মিতুর চেহারার সাথে পল্লবীর হুবুহু মিলের কথা লিখেছিল।সাধন যদি পল্লবীকে তার। পত্রটি দেখায় তখন তো হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী হবে।কমলের মন বলছে আজকের পত্রটি পল্লবীই লিখেছে।কমল আবার ভাবছে, যদি মিতু পত্রটি কৌতূহল বশত ছিঁড়ে পড়ে ফেলে!পল্লবী যদি তার এককপি ছবি পাঠায় এবং ছবিটি যদি মিতু দেখে ফেলে,তখন তো মিতু ও পল্লবীর কল্পনাতীত যমজ বোনের চেহারার মতো মিলের কথা মিতু জেনে যাবে।গোয়ালাবাজার উমরপুরের রাস্তার পাশেই মিতুদের বাড়ি।রিস্কায় মাত্র পনের মিনিটেই কমল বড়ইসবপুরে পৌঁছে যায়।কমল ঘরে প্রবেশ করতেই মিতু হাসতে হাসতে নতুন নীল খামের পত্রটি তার কমলদার হাতে তুলে দেয়।কমল নীল খামের পত্রটি দেখে বুঝতে পারে,এটি সত্যিই পল্লবীর চিঠি।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ