আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

কর্মফল

♣♣কর্মফল♣♣
বারীন্দ্র দেবনাথ ছোটন

পিতারই শিরেতে, বিন্দু রুপেতে
ভ্রমিলাম কত বর্ষ
মাতা নিজ গর্ভেতে,পুলকিত চিত্তে
ধরিলেন করিয়া হর্ষ।।
হইয়া অভুক্ত, পাইয়া মাংস রক্ত
কত যে করিলাম ভক্ষণ
জননী হাসিয়া, আনন্দে ভাসিয়া
নীরবে করিলেন রক্ষণ।।
হস্ত পদ কর্ণ, চক্ষু যে সুবর্ণ
সকলি হইলো পূর্ণ
ধরনী দেখিতে, মাতার উদরেতে
লাথিতে করিতাম চূর্ণ।।
জননী বুঝিয়া, কহিতেন চুপিয়া
ওরে ও দুষ্টু যাদু
দেখিতে তোমারে, আঁখি শুধু ঝরে
বিধাতা ডাকিছি শুধু।।
জন্মের দিন মাতা,জানে সে বিধাতা
পাইলেন কতই ক্লেশ
ক্রন্দন শুনিয়া, লইলেন তুলিয়া
না রহিল সেই রেশ।।
পিতায়ে আসিয়া,খুশিতে ভাসিয়া
কহিলা সবারে ডাকি
চাঁদমুখ বুঝি, দেখিলাম আজি
সবাই এসে যা দেখি।।
শিশুকালে যখন, করিতাম রোদন
আদরে লইতেন তোলে
মোরে ভূলাইতে,লইয়া কোলেতে
কত বুল জানি বুলে।।
সেই শিশুবেলা, পিতায়ে একেলা
কোথাও কখনো গেলে
কতকিছু নিয়া, আসিতেন ফিরিয়া
টানিয়া লইতেন কোলে।।
ভোজনে বসিলে, কতকিছু ছলে
করিতেন মোরে তোষণ
আজো সেই কথা,মনে পড়ে তা
নীরবে করিলে স্মরন।।
কালের ঘূর্ণনে, আমি যে এইক্ষণে
হইয়াছি অনেক বড়
পিতামাতা ধীরে, বয়সের ভারে
হইয়া গিয়াছেন জড়ো।।
কোথাও গেলে, ফিরিয়া না আসিলে
চাহিয়া পন্থ পানে
ঘর বাহির হইয়া,পথ পানে চাহিয়া
কত না প্রহর গুনে।।
বাড়ীতে আসিলে, গৃহে প্রবেশিলে
হেরিলে মোর মুখ
বুঝিতে চাহিনি, জানিতে পারিনি
কত যে পাইতেন সুখ।।
মোর শিশুবেলা, যেমনি একেলা
আমি ছিলাম যেইরুপ
এমনি ভাবে বুঝি,মনে মনে খুজি
তারা হইলেন সেইরূপ।।
শিশুকালে যবে, কিছুই না ভেবে
কোলেতে করিতাম হিসু
পারিনি বুঝিতে, কোথাও যাইতে
যখনি ছিলাম শিশু।।
ভাবি একদিন, আমারও যেইদিন
বার্ধক্য করিবে গ্রাস
নিজ সন্তান যদি,আমারে পাশরে
মনেতে আসিল ত্রাস।।
এইক্ষণে ভাবি, ভূলে গিয়ে সব’ই
মনেতে আসিল বল
আমি যা করিব,তাহাই লভিব
তেমনি কর্মফল।।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ