আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

চলে গেলেন ফুটবলের ‘কারিগর’ ওয়াজেদ আলী

অনলাইন ডেস্ক

ফুটবলার হিসেবে স্বাধীন বাংলায় তার বেশিদিন খেলা হয়নি। তবে বাংলাদেশের ফুটবল পতাকা উড়ানোর ‘প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ১৯৭৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলসহ বিভিন্ন ক্লাবের কোচিং কারিয়েছেন। কায়সার হামিদ, ইমতিয়াজ, আলফাজদের নিজ হাতে গড়েছেন। ফুটবল মহলে তার পরিচয় ফুটবল ‘গুরু’, ‘ওস্তাদ’ কিংবা ‘কারিগর’ হিসিবে। বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ ওয়াজেদ আলী গাজী বৃহস্পতিবার না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
সাবেক এই কোচ (৮৬) সকাল ৯টায় যশোর শহরের ওয়াপদা এলাকায় মেয়ের বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। দেশবরেণ্য এই ফুটবল কোচের মৃত্যুর খবর পেয়ে সকাল থেকে যশোরের ক্রীড়াঙ্গন-সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিরা তার বাড়িতে ভিড় জমান।
এদিন দুপুরে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে বাংলাদেশের ফুটবল কোচিংয়ের এই অগ্রপথিকের মরদেহ নেওয়া হয় তার প্রিয় প্রাঙ্গণ যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়, সংগঠকসহ বিভিন্ন সংগঠন। পরে তার মরদেহ স্থানীয় কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হয়।
১৯৫৮ সালে স্পোর্টিং ইউনিয়নের হয়ে কলকাতা লিগে অভিষেক হয় ফুটবলার ওয়াজেদ আলী গাজীর। ১৯৬৩ সালে কলকাতা মোহামেডানের হয়ে খেলার পর দেশে ফেরেন। খেলা শুরু করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বিজি প্রেসের হয়ে। পাঁচবার ছিলেন ঢাকা লিগ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য। আবাহনীর অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে ‘৭৫-এ আইএফএ শিল্ড দলেও ছিলেন তিনি।
৭৭ সালে ঢাকার মাঠ ছাড়লেও যশোর জেলা দলের হয়ে খেলেছেন আশির দশকের শেষ অবধি। ১৯৭৮ সালে কোচ হিসেবে আত্মপ্রকাশ হয় তার। তখন যশোর ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন ইউনিট টিমকে অনুশীলন করাতেন। ১৯৮৭ সালে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পান। পরে ১৯৮৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রহমতগঞ্জ, আরামবাগ, শেখ রাসেল, ব্রাদার্স, বিজেএমসির কোচের দায়িত্ব পালন করেন ‘ওস্তাদ’ ওয়াজেদ গাজী। ৬০ বছর ক্লাবপাড়ায় কাটিয়ে তৈরি করেছিলেন আশিষ ভদ্র, কায়সার হামিদ, অলক, ইমতিয়াজ, সুলতান, জনি, আলফাজদের মতো তারকা খেলোয়াড়।
নিজ হাতে বহু তারকা ফুটবলার গড়া দেশের ফুটবলের এই কিংবদন্তির শেষ জীবন কেটেছে দারুণ অর্থাভাবে। তিনবেলা ভালো-মন্দ খাবার, এমনকি ওষুধ কেনার টাকাও জোটেনি ঠিকমতো। ফুটবল অঙ্গনে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে টানা ছয় দশক দাপটের সঙ্গে রাজত্ব চালানোর পর ২০১২ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থতা গুরুতর হলে ২০১৫ সাল থেকে তার জীবনের শেষ ক’টা দিন কাটছিল যশোর শহরের ওয়াপদা এলাকায় তার মেয়ের বাড়িতে। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ), বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনসহ (বাফুফে) অনেক সংগঠন।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ