আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকের ভাঙা সেতু


     -জহিরুল ইসলাম 
‘ছাত্রটি শিক্ষকের পিঠ বেয়ে মাথায় চড়বে আর উনার কাজ হবে শোনা-যাদু-ময়না বলে হাসিমুখে অতি যতনে নিচে নামানো’।
লক্ষ্য করছিলাম, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পাঠদান, শিক্ষকের সাথে ছাত্রের আচরণ, ছাত্রদের অসদাচরণে শিক্ষকের অপারগতা। দিনগুলো কেমন যেন বদলে যাচ্ছে। অধিকাংশ ছাত্রদের পোশাক-আশাক দেখলে ছাত্রত্ব আছে বলে মনে হয়না। ছেঁড়া প্যান্ট, বোতাম ছাড়া শার্ট আর পায়ে স্যান্ডেল এমন উদ্ভট বেশ-ব্যোশাতে ক্লাসে ও ক্যাম্পাসে। তাদেরকে খুব চঞ্চল মনে হয়। তারা গরিব ঘরের কোন ছেলে নয় যেন টাকা-পয়সার অভাবে এমন পোশাক পড়তে বাধ্য হচ্ছে। আসলে এটি তাদের ফ্যাশন।
শিক্ষকের সামনে দিয়ে হেঁটে যাবে মাথা উঁচু করে, উচকো-কুচকো স্টাইলে হেয়ার কাটিংয়ের খাড়া খাড়া চুলগুলো যেন নুয়ে না পড়ে।
বই-খাতা-কলম  আনবেনা যদি কোন মেয়ে তাকে আবার বেকডেইটেড ভেবে পেলে। সাথে থাকবে স্মার্টফোন যেখানে পড়াশোনাসহ দুনিয়ার হাজার রকম বিনোদন পাওয়া যায়। স্যারের বক্তব্যও তারা রেকর্ড করে  অতি যতনে সংরক্ষণ করে রাখবে।
আফসোস! এই ছেলেরা যদি মার্জিত রুচিসম্মত পোশাকে না আসে, রুচিসম্মত  মানসিকতায় না ফিরে, বর্তমান আধুনিক বিশ্বের সভ্য সমাজের অনুস্মরণ – অনুকরণ না করে, মুখ দিয়ে যতই বুলি আওড়ান না কেন কাজের কাজ কিছুই হবেনা।
শিক্ষককে দেখার পর ছাত্রের মাথা নিচু না হলে উনার মূল্যবান কথাগুলো কখনও কানে পৌঁছাবে না বরং খাড়া খাড়া চুলের ফাঁকে দিয়ে চলে যাবে। শিক্ষকের নির্দেশনাগুলো খাতায় নোট না করে, বইয়ের পাতায় আন্ডারলাইন না করে কখনও স্থায়ীভাবে মনে রাখা সম্ভব হবেনা। উপস্থিত কথাগুলো এক কান দিয়ে প্রবেশ করে অন্য কান দিয়ে বের হয়। এই চলতি পথে লিখে বা পড়ে যদি কেউ বাধার সৃষ্টি করতে পারে কেবল তখনই তা স্থায়ী শিক্ষায় পরিণত হয়।
কিন্তু আজকালের ছেলেমেয়েরা স্মার্টফোনের গুণে গুণান্বিত। এটিই তাদের উত্তম শিক্ষক হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।  এর এতো শত গুণ যা গুণে শেষ করার মতো নয়। সবরকম শিক্ষায় তারা এতে পেয়ে থাকে। তাদের বয়সের সাথে আসক্তির বিষয়গুলো এতো সুন্দর করে সাজানো গুছানো থাকে যার মধ্যে সারাক্ষণই ডুবে থাকতে পারে। 
অভিভাবকের কাছে এর পজিটিভ গুরুত্ব এমনভাবে প্রেজেন্ট করেন যা না হলে পড়াশোনা করাই প্রায় অসম্ভব।  উনি এত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রটি কিনে দিতে না পারলে এমন হীনমন্যতায় ভোগেন যেন ছেলের জীবনটাই নষ্টের কারণ তিনি।
ছেলে পড়ার টেবিলে হাতে স্মার্টফোন!  বাহ্ কি মনোযোগী!  ভীষণ আনন্দ বাবার। একেবারে তৃপ্তির ঢেকুর নিয়ে তৃপ্ত হয়ে বসে আছেন। এর ভিতরে কোন আলফা স্টেশনে সে পৌঁছে গেল তার খোঁজ কে রাখেন! একটু কষ্ট করে প্রতিষ্ঠান প্রধান কিংবা তার শিক্ষক পর্যন্ত পোছাতে পারছেন না।
আফসোস! উনি যদি চূড়ান্ত রেজাল্টের আগে ছেলের পর্যায়ক্রমিক রেজাল্টের খোঁজ রাখতেন।
একজন শিক্ষক শুধু শিক্ষকই নন বরং একজন অভিভাবকও বটে। যিনি সবসময় চেষ্টা করেন তার ছাত্রটি সেরাদের সেরা হবে, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, বিশ্ব গড়ার কারিগর হবে। তাকে নিয়ে গৌরবে গৌরবান্বিত হবেন। নিজের সন্তানকে নিয়ে যিনি এতো ভাবেন, একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে গড়তে চান, তার সাথে বন্ধুত্বের সেতু বন্ধনই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আজ শিক্ষক থেকে ছাত্র দূরে সরে যাচ্ছে আর অভিভাবকরা থাকছেন পিছন ফিরে। আবার আইনের জঠিলতায় হাতে শিখল পরাচ্ছেন কখনও কখনও।
শিক্ষককে শিক্ষা দানে সহযোগিতার বদলে ছাত্র কোথায় আঘাত পেল অন্তরে নাকি শরীলে তার খোঁজ খবর রাখতেই ব্যাধিব্যস্ত।
ছাত্র যতদিন ছাত্রত্বের আচরণে না আববে, শিক্ষক যতদিন প্রকৃত শিক্ষা দানে না ফিরবেন, অভিভাবক যতদিন না সন্তানের যথাযথ খোঁজ রাখবেন ততোদিন শিক্ষা ব্যবস্থার রূপ ভাঙা সেতুর মতোই আকার ধারণ করবে।
লেখক :
জহিরুল ইসলাম 
প্রভাষক (অর্থনীতি)
শাহজালাল কলেজ 
জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ। 

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ