আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :
«» জলাতঙ্ক থেকে বাঁচার উপায় «» সাহিত্যের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মোস্তফা কামালের ‘থ্রি নভেলস’ «» ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের প্রতিবাদে পটুয়াখালীর বাউফলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সামবেশ «» দুমকিতে ডাব খাওয়ার অপরাধে দু’ছাত্রকে মারধর,শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ধাওয়া-পাল্টা «» কলাপাড়ায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার ও উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভা «» স্বরুপকাঠীতে শিক্ষক সমিতির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত «» নদী বিষয়ক বইমেলা উদ্বোধন «» নরসিংদীতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট এর উদ্বোধন «» ঢাকায় সাপের দংশনে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের «» লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

তিন পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক

পরীক্ষার মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন ভিসিরা। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পরবর্তীতে ডেমোনেস্ট্রেশন ক্লাস এবং মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। এরপর প্রার্থী নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের জন্য শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি/পদোন্নয়নে অভিন্ন নীতিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বুধবার আয়োজিত এক কর্মশালায় এ পরামর্শ দেন তারা। ওই অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত নীতিমালার খসড়া উপস্থাপন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি শিক্ষকদের যোগ্যতাভিত্তিক পদমর্যাদা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরীসহ অন্তত ৪০ ভিসি মতামত দেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ বলেন, নীতিমালায় ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের প্রবেশপদে (প্রভাষক) পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে’ কথাটি আছে। এটি বাতিল করে ‘বাধ্যতামূলক’ কথাটি সংযোজন করা প্রয়োজন। শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। নতুবা এটি নিয়ে নতুন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা বলেন, বিজ্ঞান ও মানবিক সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে জিপিএ-৩ দশমিক ৫ চাওয়া হয়েছে। এটি সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি যোগ্য শিক্ষক নিয়োগে পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর দাবি জানান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আবদুস সোবহান বলেন, অভিন্ন নিয়োগ নীতিমালা বাস্তবায়ন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে জিপিএ-৯ করা প্রয়োজন। তবেই ভালো শিক্ষক পাওয়া যাবে। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএসসি-এইচএসসি সার্টিফিকেট মূল্যায়ন না করে অনার্স-মাস্টার্স সাটিফিকেট মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ বছরে অধ্যাপক হয়ে গেছেন, অনেকে আবার একটি প্রকাশনা দিয়ে বারবার পদোন্নতি পেয়েছেন এমন ঘটনাও রয়েছে। তাই শিক্ষকদের কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভিসি অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা মার্স্টাস সমমান করা হলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষাকতায় না এসে বিদেশে চলে যাবে। এ কারণে সেটি অনার্স পাস করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম থেকে ‘এ’ এবং ‘ও’ লেভেল করা শিক্ষার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কী হবে, তা অভিন্ন নীতিমালায় উল্লেখ করার সুপারিশ জানান।

শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আপগ্রেডেশন বিষয়ে কোনো তারতম্য রাখা যাবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের গ্রেড বা পদমর্যাদা প্রদান করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা বেতন-ভাতা বাড়াতে দাবি করছি না, আমাদের সম্মানের স্থানটি নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ২০২০ সাল থেকে অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ-পদোন্নতি কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, অভিন্ন নীতিমালায় বাস্তবায়ন করতে হলে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষক নির্বাচন করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে প্রার্থীকে ক্লাস নেয়ার দক্ষতার বিষয়েও পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। যেসব শিক্ষক পাঠ্যপুস্তক লিখেন ও গবেষণা কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাদের অগ্রধিকার দেয়ার বিধান প্রস্তাবিত নীতিমালায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মোনায়েম বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মাস্টার্স সমমান পাঁচ বছরের কোর্স সম্পর্ণ করার কথা বলা হলেও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে ৫ থেকে ৬ বছর মেয়াদে মাস্টার্স কোর্স করা হয়। তাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি সংশোধন করা প্রয়োজন।

এদিকে আলোচনায় অংশ নেয়া ভিসিদের কেউ কেউ অভিন্ন নিয়োগ নীতিমালার সমালোচনা করেছেন।

তারা বলেন, এটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত চিন্তার স্থানটি হারিয়ে যাবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হবে। জেলা পর্যায়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভালো মানের শিক্ষক নিয়োগ দিতে জটিলতা সৃষ্টি হবে। অভিন্ন নিয়োগ নীতিমালার কারণে উচ্চশিক্ষাকে একটি স্থানে আবদ্ধ হয়ে পড়বে। যেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি অভিন্ন পদ্ধতিতে করা সম্ভব হয়নি, সেখানে অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ বাস্তবায়নে নতুন সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, নীতিমালার খসড়া তৈরিতে ফেডারেশন পরামর্শ ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত খসড়ায় ইউজিসি ইচ্ছামতো পরিবর্তন করেছে। এটি বাস্তবায়ন করতে কিছু বিষয়ে সংশোধন জরুরি।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থী বাতিল করে কর্তৃপক্ষের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হচ্ছে। এসব কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন নীতিমালা করতে চাই। দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে উচ্চপর্যায়ে নিতেই আমরা এমন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি বাস্তবমুখী পরামর্শগুলোকে আমলে নিয়ে তা বিবেচনা করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।সুত্র যুগান্তর

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ