আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লালুয়া ইউপি নির্বাচনের ভোট নিয়ে প্রার্থীসহ ভোটাররা উদ্বেগ উৎকন্ঠায়

মোয়াজ্জেম হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি।।

কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউপি নির্বাচনে ৪ জন চেয়াম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছেন চেয়ারম্যান , সাধারন সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থীরা। ঝড় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভোটাদের দ্বারে দ্বারে । দলীয় প্রতিকে অনুষ্টেয় এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি প্রার্থী মো. সজল বিশ্বাস (ধানের শিষ) ও চরমোনাই প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন মৃধা (পাখা) (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ) একক প্রার্থী দিলে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে রয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ বর্তমান চেয়ারম্যান মীর তারিকুজ্জামান তারা (নৌকা) (আওয়ামীলীগ), মো. শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস (ঘোড়া) (স্বতন্ত্র) প্রতিক নিয়ে ভোট যুদ্ধে অবর্তীন হচ্ছেন। এছাড়া সাধারণ ইউপি সাধারন সদস্য পদে ৩৬ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্রতিদিন দুপুর থেকে মাইকে প্রচারনা , ফেসটুন,ব্যানার, পোষ্টার ও লিফলেটে ছেয়ে গেছে ইউপি এলাকায়। চায়ের স্টল হোটেল, রেষ্টুরেন্টে এ নির্বাচন নিয়ে চলছে ভোটার ও সাধারন মানুষদের মধ্যে কথাবার্তা। এখানকার ভোটদের মধ্যে আনন্দ উল্যাস থাকলে তার মধ্যে রয়েছেও উদ্বেগ, উৎকন্ঠাও বিরাজ করছে। সবার মধ্যে একটি আতঙ্ক কাজ করছে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কিনা। নির্বাচন সুষ্টু হবে কি না?, ভোট সুষ্ট ও নিরপক্ষ নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক ভোটাররা। সঠিক ভাবে ভোট হবে তো? প্রশাসনের দৃষ্টি নিরপেক্ষ থাকবে তো? এ নিয়ে আতঙ্কের কমতি নেই সরকার বিরোধী ভোটার, চেয়ারম্যান , সাধারন সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে। কোনো কোনো প্রার্থীর সমর্থকেরা বলেছেন, তাদের এজেন্টদের সামনে ভোট দিতে হবে। আবার কেই গোপনে ব্যালটেই ভোট দেয়ার কথা বলছেন। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। ভোট কেন্দ্র দখল ও সিল মারা শংকার মধ্যে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ভোটে বিজয়ী প্রার্থী শওকত হোসেন তপনকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য তৃণমূলের ভোটে তৃতীয় স্থানে থাকা বর্তমান চেয়ারম্যান মীর তারিকুজ্জামান তারাকে কেন্দ্র থেকে আবার নতুন ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু লালুয়া ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ভোটে মনোনীত প্রার্থীকে বাদ দিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় বানাতি বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছিল শওকত হোসেন তপন সমর্থক লোকজন। ওই সময় বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারন জনগন বলছে ,বর্তমানে লালুয়ায় সরকারের উন্নয়ন কাজে জমি অধিগ্রহণকৃত সাধারণ মানুষকে দুর্নীতিমুক্তভাবে ক্ষতিপুরনের অর্থ পেতে তাদের পছন্দের প্রার্থী শওকত হোসেন তপনকে ঘোষণা দেন। লালুয়ার সর্বত্র এনিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। তারা আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শওকত হোসেন তপন পক্ষে নির্বাচন করার সিদ্বান্ত নেয়। তারা আগামী ২৫ জুলাইয়ের নির্বাচনে শওকত হোসেন তপন (স্বতন্ত্র) কে বিজয়ী করার ঘোষণা দেন। ওই ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮০০ শত ১৫ জন । এর মধ্যে পুরুষ ৫৮৫৫ ও মহিলা ৫৯৬০। আগামী ২৫ জুলাই লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
লালুয়াবানাতি বাজার একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারন ভোটাররা সরকার দলীয় লোকজনকে ভয় পাচ্ছে তারা তাদের পবিত্র ভোট দিতে পারবে কিনা? তাদের অধিকার হরন করা হয় কিনা এ নিয়ে চায়ের দোকানে চলছে নানা কথা বার্তা। হাসনাপাড়া গ্রামের ভোটার মো.রেদওয়ান হাওলাদারের সাথে কথা বলে জানাগেছে, লালুয়া ইউনিয়ন একটি সাগরপারের জনপথ ও দুর্যোগপুর্ন এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভাঙ্গা বেড়িবাঁধই এখন প্রধান সমস্যা। ঝড় হলেই আতংক ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে। মেঘ দেখলেই আতঁকে উঠছে দূর্যোগ কবলিত লালুয়া ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ। গত এক যুগে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ও নদী ভাঙ্গনে এ গ্রামগুলোতে প্রানহানীর সাথে শতশত পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। কিন্তু বেঁচে থাকার মাথা গোঁজার বিকল্প আশ্রয় না পাওয়ায় মৃত্যুকূপে খড়কুঁটোর মতো ঝুপড়ি করে বসবাস করছে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারগুলো। এখন লালুয়ায় সরকারের উন্নয়ন কাজে জমি অধিগ্রহণকৃত সাধারণ মানুষকে দুর্নীতিমুক্তভাবে ক্ষতিপুরনের অর্থ পেতে তাদের পছন্দের সৎ যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিবেন। এই অধিকার টুকু বর্তমান সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারন জনগন ও ভোটাররা।
বিএনপি মনোনীত চেয়াম্যান প্রার্থী ও সাবেক ছাত্র নেতা মো. সজল বিশ্বাস বলেন, আমার নির্বাচনী প্রতিক্ষা আমি নির্বাচিত হতে পারলে নয়াপাড়াও চারিপাড়া ভাঙ্গনের কারনে পানিতে তলিয়ে থাকা গ্রামের মানুষ যাতে সুন্দর ভাবে বসবাস করতে পারে তার ব্যবস্থা করবো। লালুয়া ইউনিয়ন থেকে সন্ত্রাস ,মাদক ও বাল্য বিবাহের রোধ করবো এবং আমার ভোটাররা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কিনা। আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়াম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মীর তারিকুজ্জামান তারা ,তার ফোনে কয়েক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এজন্য তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। চরমোনাই প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন মৃধা বলেন,আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে প্রথমে নদী ভাঙ্গন রোধ করবো। সরকার জমি অধিগ্রহন করছে তার টাকা দালালের মাধ্যমে ছাড়াতে হয় আমি হতে পারলে দালাল কি শব্দ তা থাকবেনা। আওয়ামী লীগ(স্বতন্ত্র) প্রার্থী শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, আমাকে জনগন বাধ্য করছে নির্বাচন করার জন্য সে জন্য আমি নির্বাচন করছি। আমি নিজের মতো করে প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছি, কিন্তু বর্তমান চেয়াম্যান ও তার বাহিনীরা ভোট সিল পিটিয়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। আমি নির্বাচিত হলে জনগনের জমি অধিগ্রহনের টাকা ঠিকমত উঠিয়ে আনতে পারে তার ব্যবস্থা করব। তপন বিশ্বাকে প্রশ্ন করলে যে আপনি ভোটারদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের উওরে তিনি বলেন, আমি সাধারন ভোটারের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এর পরও আমার সর্বস্তরের ভোটাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে নির্বাচন সুষ্টু হবে কি না তা নিয়ে। আমার বাবা লালুয়া ইউনিয়নে ১৯৬৫-১৯৭৮ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিল ।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং কর্মকতা মো. আব্দুর রশিদ বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্টু ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রশাসনের পক্ষে থেকে মোবাইল ফোর্স থাকবে ৩টি, স্টাইকেন ফোর্স থাকবে ২টি, র‌্যাব মোবাইল টিম থাকবে ৪টি, বিজিবি বর্ডার গার্ড থাকবে প্লাটন ২টি, কোস্টগার্ড থাকবে ১টি. নির্বাহী কর্মকর্তা থাকবে ৩জন। এ ছাড়া ও আরো প্রশাসন জোড়দাড় থাকবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ