আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, হিমশিম খাচ্ছে মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিপরীতে ২৪ লাখের বেশি আবেদন পড়ায় নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
দুই দফা সভা করেও পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। নভেম্বর মাসজুড়ে প্রাথমিক ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী এবং সারা দেশের স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর ডিসেম্বর মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় পরীক্ষা আয়োজনকারী কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকবেন। এসব কারণে জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি স্বীকার করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম মনজুর কাদির আজকালের খবরকে বলেন, ‘এবার ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিপরীতে ২৪ লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন। রেকর্ড সংখ্যক আবেদন পড়ায় আমাদের বড় ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন। পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানো, নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ আগের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে সময় লাগবে। অক্টোবরে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাবনা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সচিব আকরাম আল হোসেনের সভাপত্বিতে একটি সভা হয়েছে। সভায় পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ওএমআর ফরম ডিজাইন ও মূল্যায়ন, পরীক্ষার সময়সূচি, ফলাফল তৈরি করে প্রকাশ এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের আসন বিন্যাসের পদ্ধতি উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করতে পারেনি। এর আগে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করতে গত ৪ অক্টোবর আরও একটি সভা করেছিল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
সভা সূত্রে আরও জানা গেছে, ১ নভেম্বর থেকে অষ্টম শ্রেণির এবং ১৮ নভেম্বর থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা শুরু হবে। নভেম্বর মাসের শেষেদিকে বার্ষিক পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা শেষে সারা দেশের স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা শেষে শুরু হবে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণের মহাযজ্ঞ। এসব পরীক্ষায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আর শিক্ষকরাও গুরু দায়িত্ব পালন করেন। কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের ব্যস্ততার মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না।
সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এবার উপজেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেওয়া যায় তার সমীক্ষা করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে (ডিপিই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিপিই কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে একটি প্রতিবেদন দিবেন। তার ওপর ভিত্তি করে জেলা শহরে কেন্দ্র বাড়ানো ও উপজেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। জেলা ভিত্তিক আবেদনকারীদের নিজ জেলায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার সমন্বয়ে কয়েক ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৪ (পিইডিপি-৪) মাধ্যমে ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে গত ৩০ জুলাই ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮’
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সারা দেশ থেকে ২৪ লাখ এক হাজার ৫৯৭টি আবেদন জমা পড়েছে। নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
আজকালের খবর
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ