আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :
«» ঝিকরগাছা শংকরপুরে জাতীয় শোক দিবস পালিত «» প্রশ্ন ফাঁস: জনতা ব্যাংকের পরীক্ষা ফের নেওয়ার নির্দেশ «» ভুটানকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা «» অটলবিহারী বাজপেয়ী আর নেই «» হোমনা-তিতাসে অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ নেতৃত্বে শতাধিক শোক দিবস অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ «» বেসরকারি শিক্ষকদের ঈদ উৎসব «» কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ «» সিন্ডিকেটের খপ্পরে ১৩৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প «» সাংবাদিক পরিবারে ১ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নরসিংদী-৪ আসনের এমপি «» “শিক্ষাবিস্তার ও বেকারত্ব হ্রাসে কিন্ডারগার্টেনের অবদান”

বাজেটে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুবিধা- শিক্ষার কণ্ঠস্বর

শিক্ষার কণ্ঠস্বর

সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ (হাউস লোন) পেতে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তারা অন্তত একটি ফ্ল্যাট কিনে বা বাড়ি বানিয়ে নিজস্ব বাসায় বসবাস করতে পারবেন। আগামী অর্থবছরেই এটা চালু করা হবে। এছাড়া এবারের বাজেটে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ সালের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারিরা বিশেষত নবীন কর্মকর্তারা যেন একটি ফ্ল্যাট বা বাস্থনের মালিক হতে পারেন সে দিক লক্ষ্য রেখে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ দেয়ার বিষয়ে একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরেই তা কার্যকর হবে। এ নীতিমালার আওতায় একজন সরকারি কর্মচারী দেশের যেকোনো স্থানে গৃহ নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য ঋণ নিতে পারবেন। সহনীয় ও পরিশোধযোগ্য সুদে এ ঋণ দেওয়া হবে। ঋণের প্রকৃত সুদের অবশিষ্ট অর্থ সরকার ভতুর্কি বাবদ বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে পরিশোধ করবে। এ ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি সেবা দিতে কর্মচারীরা আরো উদ্যমী হবেন এবং সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হবেন।

বর্তমানে সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত বা বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৮ লাখ পরিবার নিয়মিত পেনশন পেয়ে থাকে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর বাইরে হতদরিদ্র ৩৫ লাখ মানুষ মাসিক ৪০০ টাকা হারে বয়স্ক ভাতা পান, যা মোট বয়স্ক জনসংখ্যার মাত্র এক-চতুর্থাংশ। এ ভাতার পরিমাণ মানসম্মত জীবন ধারণের জন্য যথেষ্ট নয়। জনমিতির স্বাভাবিক ধারায় এক সময় উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অনুপাত বাড়বে। তাই বিদ্যমান সরকারি পেনশন কার্যক্রমের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সব কর্মজীবী মানুষের জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় সরকার পরিচালিত স্কিমে নিবন্ধন করে একজন কর্মজীবী মাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংশ্নিষ্ট কর্মজীবীর পেনশন হিসাবে জমা করবে। হতদরিদ্র শ্রমজীবীদের ক্ষেত্রে তাদের অংশের অতিরিক্ত হিসেবে সরকার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ওই হিসাবে জমা করবে। এ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গঠিত তহবিল বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত আয় সার্বজনীন পেনশন তহবিলে জমা হতে থাকবে। ক্রমপুঞ্জিভূত চাঁদা ও আয়ের পরিমাণের ভিত্তিতে সংশ্নিষ্ট ব্যক্তি অবসরকালে মাসিক পেনশন প্রাপ্ত হবেন। তবে সার্বজনীন পেনশন প্রবর্তনের জন্য মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, যা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার। সরকারি কর্মচারী ও জনগণের মধ্যে সুযোগের ন্যায্যতা ও সামঞ্জস্য বিধানের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিকল্পনা, ধারাবাহিক কৌশলগত পরিবর্তন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সৃজন, কারিগরি সক্ষমতা ও যথাযথ নীতি-কৌশল প্রণয়ন প্রয়োজন।

সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত কর্মজীবী মানুষের জন্য একটি টেকসই সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ আগামী অর্থবছরেই শুরু করা হতে পারে। কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ