আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :
«» জলাতঙ্ক থেকে বাঁচার উপায় «» সাহিত্যের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মোস্তফা কামালের ‘থ্রি নভেলস’ «» ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের প্রতিবাদে পটুয়াখালীর বাউফলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সামবেশ «» দুমকিতে ডাব খাওয়ার অপরাধে দু’ছাত্রকে মারধর,শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ধাওয়া-পাল্টা «» কলাপাড়ায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার ও উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভা «» স্বরুপকাঠীতে শিক্ষক সমিতির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত «» নদী বিষয়ক বইমেলা উদ্বোধন «» নরসিংদীতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট এর উদ্বোধন «» ঢাকায় সাপের দংশনে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের «» লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

” মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান”

গোলাম কবীর টরন্টো, কানাডাঃ মুক্তিযোদ্ধা ও কণ্ঠশিল্পী মরহুম আব্দুল জব্বার (১ জানুয়ারী ১৯৫৪-১ ডিসেম্বর ২০০০) (জুড়াইল, নওপাড়া ইউনিয়ন, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা), তিনি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের পল্লীগীতির নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী, যাত্রা পালার বিবেক এবং সমাজসেবী।

তিনি ১৯৫৪ সালের ১ জানুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের জুড়াইল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম সিরাজ আলী বেপারী ও মাতা মরহুমা জরিহুস বানু। তাঁরা ছিলেন ৪ ভাই ও ২ বোন এবং তিনি ছিলেন সবার ছোট। তাঁদের

সবার বড় ভাই মোঃ মর্ত্তুজ আলী বেপারী। তিনি নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন।

১৯৭১ সালে দেশের অবস্থা বুঝে দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকেই জুড়াইল গ্রাম থেকে জব্বার সহ ৯ জন টগবগে যুবক বন্ধু ভারতে চলে যান । প্রথমে তাঁরা মহেষখুলা ইয়ূথ ক্যাম্পে অবস্থান নেন এবং সেখান থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তোড়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ২৮ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে আব্দুল জব্বার যুক্ত হন ১১ নং সেক্টরের ৬ নং কোম্পানীতে কমান্ডার এম.এ. সামাদের অধীনে। তিনি বীরত্বের সাথে দুর্গাপুর, বিজয়পুর, বিড়িসিড়ি এলাকায় সম্মুখযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তাঁর সহ যুদ্ধারা ছিলেন ইসলাম উদ্দিন (জুড়াইল), কাঞ্চন মিয়া (কাউরাট), আবুল কাসেম ভূঁইয়া (ভুগিয়া), আব্দুর রাজ্জাক (মোজাফ্ফরপুর), মতিয়র রহমান (শিবপুর) প্রমুখ।

দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি নিজ এলাকায় কেন্দুয়াতে ফিরে আসেন ও সংগীত, যাত্রা দলে বিবেকের অভিনয়, কৌতুক অভিনয় , সমাজ সেবা সহ নানা কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। যুবক বয়সে তিনি খুব ভালো ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত পল্লীগীতির শিল্পী হিসেবে বাঁসুরী সংঙ্গীতানুষ্টানে গান গাইতেন।

তিনি কেন্দুয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অর্থ সম্পাদক, নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি, কেন্দুয়া ঝংকার শিল্পী গোষ্ঠির উপদেষ্টা সহ-সভাপতি ছিলেন।

তাঁর স্ত্রীর নাম সেলিনা বেগম । তাঁদের ৩ ছেলে ১ মেয়ে।

১. আশরাফুল আলম নান্টু

২. নাজমা বেগম

৩. রফিকুল ইসলাম

৪. ওয়াসিম আহমেদ

তিনি মাত্র ৪৭ বছর বয়সে ১ ডিসেম্বর ২০০০ সালে মৃত্যু বরণ করেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন, আমীন।

 

সম্পাদক : গোলাম কবীর, টরন্টো, কানাডা (চন্দ্রপুর, বারহাট্টা, নেত্রকোনা), প্রবন্ধকার এবং নেত্রকোনার ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষক , ১ ডিসেম্বর ২০১৬।

তথ্য সুত্র:

১. মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ফারুখী, কেন্দুয়া

২. ওয়াসিম আহমেদ , কেন্দুয়া , মুক্তিযোদ্ধা ও কণ্ঠশিল্পী মরহুম আব্দুল জব্বার এর কনিষ্ঠ পুত্র।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ