আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

শিক্ষকদের বেতন থেকে অতিরিক্ত চাঁদা কর্তন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

মুহাম্মদ আব্দুল মতিন

বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকরা , যাদের হাতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭% শিক্ষার্থীর  শিক্ষার দায়িত্ব ন্যাস্ত, নির্বাচনের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন, সেই শিক্ষকরাই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে মাস শেষে বেতন না পেয়ে পান ‘অনুদান সহায়তা’। বাড়িভাড়া পান ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা, উৎসব বোনাস ২৫% । তাদের কোন শিক্ষা ভাতা, টিফিন ভাতা, যাতায়াত ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, পাহাড়ি ভাতা নেই। তাদের কোন পদোন্নতি নেই। কলেজ পর্যায়ে একটি মাত্র পদোন্নতি থাকলে ও অনুপাত নামক কালো আইনের ফলে অধিকাংশ প্রভাষক আজীবন একই পদে থেকে মৃত্যুবরণ করেন।বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এতসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত , বেতন না পেয়ে অনুদান সহায়তা পান। এতদসত্ত্বেও তাদের বেতন থেকে কর দিতে হয়। সরকারি শিক্ষকরা অবসরান্তে অবসর ভাতা পান , এর জন্য তাদের বেতন থেকে কোন চাঁদা কর্তন করা না হলে ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের যৎসামান্য সরকারি অনুদান সহায়তা (! ) থেকে এতদিন অবসর বোর্ডে ৪% এবং কল্যাণ তহবিলে ২% কর্তন কর্তন করা হতো। তার বিনিময়ে অবসর ভাতা বাবত ৭৫ মাস এবং কল্যাণ তহবিল থেকে ২৫ মাস , অর্থাৎ সর্বসাকুল্যে ১০০ মাসের অনুদানের সমপরিমাণ অবসর সুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু মাসের পর মাস উক্ত চাঁদা কর্তন করা হলে ও অধিকাংশ শিক্ষকের ভাগ্যে এ সুবিধা জোটেনা। কল্যাণ ও অবসর বোর্ডে ধরনা দিতে দিতে না পাওয়ার ক্ষোভ নিয়েই অনেকে মৃত্যুবরণ করেন।মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা এর মতো হঠাৎ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক অবসর ও কল্যাণ তহবিলে পূর্বের ৬% এর সাথে আরো ৪% চাঁদা কর্তনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আর  তা করা হয় অবসর সুবিধা না বাড়িয়েই। সারাদেশের শিক্ষকরা এ কালো আইনের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হলে অধিদপ্তর বাধ্য হয়ে উক্ত প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে। কিন্তু হঠাৎ করে  বিগত সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে  মাউশির ওয়েবসাইটে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তনের আদেশ জারি করা হয়। আবারও ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে শিক্ষক সমাজ। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ পেজে শিক্ষকরা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং এ আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। কয়েক ঘণ্টা পর শিক্ষা সচিব মহোদয় বলেন, অতিরিক্ত চাঁদা কর্তন করা হবেনা। তিনি এও বলেন যে, ভুলক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। ওয়েবসাইট থেকেও আদেশটি মুছে ফেলা হয়।দুবার ব্যার্থ হয়ে  এবার গিনিপিগ বানানো হয় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের। ইতোমধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের অনুদান সহায়তা থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তন  শুরু হয়ে গেছে। স্কুল, কলেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কর্তন  ও সময়ের ব্যাপার ‌।বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকা সত্ত্বেও তাদের বেতন তথা অনুদান সহায়তা  থেকে ১০% কর্তন অত্যন্ত অযৌক্তিক ও  দুঃখজনক। এ অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত চিরতরে বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বানে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেল চারটায় দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে ‌। দেশের ৫লক্ষ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকবৃন্দের প্রতি আহ্বান, আসুন সংগঠন যার যার, প্রতিবাদ সবার এই নীতিতে রবিবারের মানববন্ধনে সকলে অংশগ্রহণ করে মানববন্ধন সফল করি। সবাই অংশগ্রহন করলে অবশ্যই কর্তন বন্ধ হবে। আর যদি শিক্ষকদের খামখেয়ালির কারণে একবার কর্তন শুরু হয়ে যায় তাহলে  আর কিছু করার থাকবেনা।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ