আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের কান্না।

**************************************
সবুজের সমারোহে রূপসী এই সোনার বাংলায় একজন নাগরিকের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম চাহিদা হলো শিক্ষা। আর এই শিক্ষা ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষকগন ৯৭% শিক্ষার গুরু দায়িত্ব পালন করেন। অথচ মাত্র ৩% দায়িত্ব পালনকারী সরকারি শিক্ষকদের সাথে বেসরকারি শিক্ষকদের জীবন মানের বিশাল বৈষম্য। বেসরকারি শিক্ষকরা আজ শুধু তাদের চোখের মুছারও কিছু নিতে পারছেন না। শিক্ষকরা আজ মুক্তি চায়, চাকুরীর বিধি অনুযায়ী সম্মান সহ নিশ্চয়তা চায়।

সারা দেশের সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩% শিক্ষার্থী পড়া লেখার মান, অবকাঠামোগত সুবিধা সহ ১২/-১৮/ টাকা মাসিক বেতনে পড়া লেখা করার সুযোগ পাচ্ছে। আর অপর দিকে ৯৭% শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষার মান ও সরকারী অবকাঠামো থেকে বঞ্চিত হয়ে মাসে গড়ে প্রায় ৩৫০/ (কম বেশি হতে পারে) টাকা মাসিক বেতনে পড়া লেখা করছে। যা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। আর এ রকম বিলাস বহুল পড়া লেখার খরচ যোগাতে গিয়ে অভিভাবকরা হিমসিম খাচ্ছে। অনেকেই আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিচ্ছে। পড়া লেখা থেকে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। গরীব, দুখী মেহনতী মানুষের সন্তানরা পড়বে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেশি টাকায়। আর ধনিক শ্রেণির সন্তানরা পড়বে সরকারী প্রতিষ্টানে কম (নাম মাত্র) টাকায়। এটা হতে পারে না। হতে দেয়া যায় না। সরকার যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আমি আইনের আশ্রয় নিব। এর চাপা ক্ষোভ এখন সর্ব মহলে ছড়িয়ে পড়ছে। এক দেশে দুই নীতি চলতে পারে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও কম খরচে পড়া লেখার সাংবিধানিক অধিকার রাখে। ৯৭% জনগোষ্টিকে অবহেলা করে দেশের সঠিক উন্নয়ন কোন ভাবেই সম্ভব নয়।

প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি এখন এমন অবস্থা হয়েছে- যা অন্ধকার যুগকেও পিছনে ফেলছে। বেসরকারি প্রতাষ্ঠানের শিক্ষকগন এখন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। শিক্ষা সংক্রান্ত কোন বিষয়ে সঠিক মতামত দেয়ার মতো কোন অধিকার শিক্ষকদের নেই। সরকার যদি এ ব্যাপারে গ্রহন যোগ্য সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে শিক্ষার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যে আয় আছে এবং হয়, তা থেকে সরকার এক টাকাও পায় না। আয় ব্যয়ের সঠিক হিসাবও সরকার রাখে না। অর্থের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান সহ সকল শিক্ষক জিম্মি। নাজেহাল হচ্ছেন অধিকাংশ শিক্ষক। আর শিক্ষকরা লাঞ্চিত হচ্ছেন মাত্রতিরিক্ত। আমি দেখেছি, আমার অভিভাবক আমার শিক্ষকের সাথে কোন ভাষায় কথা বলতেন। আর এখন কি হচ্ছে ?
পাহাড় সম সমস্যার প্রতিকারের উপায় কি ?
আমি মনে করি, সকল প্রতিবনন্ধকতা অতিক্রম করে বেসরকারি শিক্ষাকে জাতীয়করণ করলে সমস্যা সমাধান হবে। সকলের সুমতি হোক। বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ আন্দোলনের জয় হোক।

মো. মতিউর রহমান দুলাল
প্রচার সম্পাদক,
বাবেশিকফো।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ