আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

শিক্ষা সেক্টরকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র রুঁখে দাঁড়াও

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম ( বাবেশিকফো) সূচনালগ্ন থেকেই শিক্ষা ও শিক্ষকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি ইতোমধ্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য, শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য ও শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন,বিক্ষোভ সমাবেশ, বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ শিক্ষক সমাবেশ ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২০ দিন অনশনসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছে। ২০১৭ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবসর ও কল্যাণের ক্ষেত্রে শিক্ষকদেরকে অতিরিক্ত কোন সুবিধা না দিয়ে আরো ৪% কর্তনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। ফোরামের হাজার হাজার প্রযুক্তিমনস্ক নেতাকর্মীর অনলাইন- অফলাইন প্রতিবাদ ও অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করে। বিগত নির্বাচনের প্রাক্বালে আবার নতুন করে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। হাজার হাজার শিক্ষক নিজেদের টাইমলাইনে প্রতিবাদ জানানো শুরু করলে রাতে শিক্ষা সচিব জানালেন অতিরিক্ত কর্তন হচ্ছে না। প্রজ্ঞাপনটি ভুলে জারি করা হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপনটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট হতে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারির এক আদেশের আলোকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কারিগরি শিক্ষকদের জানুয়ারি- ২০১৯ এর বেতন হতে অতিরিক্ত ৪% কর্তন করেছে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন হতে অতিরিক্ত ৪% কর্তনের পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। জাতি গড়ার কারিগরদের সাথে এ কেমন আচরণ? শিক্ষকদের সাথে এরকম লুকোচুরি আচরণে তীব্র নিন্দা জানাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকরা জীবেনের ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করে আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। এমনকি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক শহীদ হয়েছেন। ৪% কর্তন করে কি তাদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেয়া হচ্ছে? নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে শিক্ষকদের জন্য ৫% ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতার ঘোষণা দিয়ে আপনি শিক্ষকদের মন জয় করে নিয়েছেন। প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা কেউ হয়তোবা প্রজ্ঞাপনটি বাস্তবায়ন করে শিক্ষকদের প্রতি আপনার অবদানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে চাই এবং শিক্ষকদের আপনার মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাই। আমরা মনে করি, এটি শিক্ষকদেরকে ক্লাসরুম থেকে বের করে রাজপথে এনে শিক্ষা সেক্টরকে অস্থির করার গভীর ষড়যন্ত্র। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি। ফোরাম অতিরিক্ত ৪% কর্তনের বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনের মতো সুসৃঙ্খল প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। এরপরও যদি ৪% কর্তনের কোন হঠকারি সিদ্ধান্ত হয় ফোরাম পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষককে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলনে যাবে। প্রয়োজনে আবার যাবে প্রেসক্লাবের খোলা চত্বরে।

মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী,

আহবায়ক, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম ও যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ