আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

স্বাধীনতা ৪৮বছর পর দক্ষিন সুনামগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আরশ আলীর নামে এখনো রাস্তাঘাট ও সরকারি প্রতিষ্টান নামকরণ করা হয়নি

মোঃ আবু খালেদ,সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ::

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজ পরিবার ও পাড়া প্রতিবেশীদের জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে ঘর থেকে ২ কেজি চাউল বিক্রি করে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে সরাসরি যুদ্ধ করে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেন দক্ষিন সুনামগঞ্জ আস্তমা গ্রামের সতের বছরের এক তরুণ যুবক শহীদ আরশ আলী। ৪৮ বছরেও মেলেনি শহীদ আরশ আলীর নামে এখনো রাস্তাঘাট ও সরকারি প্রতিষ্টানের নামকরণ।শহীদ মুক্তিযোদ্ধার আপন চাচা মজল আলী বর্তমান পরিকল্পনা মন্ত্রী এম,এ মান্নানকে অনেকবার বলেছেন আস্তমা গ্রামের রাস্তা উনার নামকরণ করার জন্য।শহীদের আপন চাচাতো ভাই জিল্লুল হক এর উদ্যোগে প্রতিবছর দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ১৫ই সেপ্টেম্বর শহীদ মিনারা মৃত্যু দিবস পালন করে থাকেন দক্ষিন সুনামগঞ্জ শহীদ আরশ আলী স্মৃতি সংসদ পরিষদ পক্ষ থেকে।এছাড়াও আস্তমা গ্রামে শহীদ আরশ আলী স্মৃতি সংসদ এর পক্ষ থেকে এস,এস,সি ও এইচ,এস,সি পাশ মেধাবী শিক্ষার্থীদের কে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

শহীদ আরশ আলী মনে হবে এক অখ্যাত বীর; কিন্তু এই মানুষটি যুদ্ধের মাঠে ছিলেন যেমন অকোতভয়,তেমনি তাঁর সাক্ষ্যটা ছিল যুদ্ধ করতে করতেই তিনি সেদিন শহিদ হয়েছিলেন।সেদিন তারিখটি ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশ আলীর জন্ম ১৯৫২ সালের ৫ ই ডিসেম্বর; জায়গাটি আবার সুপরিচিতই- সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নে।তাঁর গ্রামের নাম-আস্তমা।এই গ্রামটি নাইন্দা নদীর তীরবর্তী। বাবা ইদ্রিস আলী ছিলেন খুবই সহজ সরল প্রকৃতির; আর মা ময়না বিবি ছিলেন সাহসী ও ত্যাগী।পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে আরশ ছিলেন প্রথম; অপর দুই ভাই-হাসিম আলী ও সামছুল হক এবং তাঁর-দুই বোন দিলারা বেগম ও হুসনারা বেগম।সামছুল হক ২ বছর আগে মারা গিয়েছেন।এখানে আরশ আলীর যুদ্ধদিনে উপস্থিতি হওয়া আমাদের মুক্তিসংগ্রামের পৃথক কোন কাহিনী ছিলনা।দেখা যাবে আমাদের অহংকার এই আরশ আলীও একই স্রোতধারায় গিয়ে মিশেছেন। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু হলেন সেই প্রেরণা যার ৭ ই মার্চের ভাষণ শুনে যুদ্ধ দিনের মাটে গিয়ে উপস্থিত হতে পেরেছিলেন।ত্যাগ করতে পেরেছিলেন জীবনের মায়া; অংশগ্রহণ করতে পেরেছিলেন আমাদের জাতীয় এই মুক্তিসংগ্রাম আর স্বাধীনতা যুদ্ধে।দুঃখ জনক হল তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ দেখে যেতে পারেননি; ১৫ সেপ্টেম্বর, বাবনিয়া যুদ্ধে শহিদ হন।বাবনিয়া গ্রামে আখরা লাগোয়া এই যুদ্ধে সময়টা ছিল তখন আনুমানিক ৫ টা। বলাবাহুল্য আরশ আলী শেষ নিঃশ্বাস টুকু থাকা পর্যন্ত খুব দক্ষতার সাথে সেদিন যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন।
শাহাদাৎ বরনের পর আরশ আলীকে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া নামক গ্রামে’র দক্ষিণের হাওর তথা আহমদপুর মৌজা নামক টিলাতে তাকে সমাহিত করা হয়।আমরা জেনেছি যার তাজা রক্তে এদেশ এখন স্বাধীন,সেই আরশ আলীর কবরস্থানে নাকি কোন স্মৃতিচিহ্ন নেই।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ