আজ   ,
সংবাদ শিরোনাম :

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে হালুয়াঘাটে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ-শিক্ষার কণ্ঠস্বর

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্তৃক হামলা, মারধর, ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে হালুয়াঘাটের কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। ১৭ মে বৃহঃপতিবার সকালে হালুয়াঘাট প্রেসক্লাব চত্ত্বরে প্রায় ঘন্টা ব্যাপী এ প্রতিবাদ কর্মসূচী পালিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মোঃ বাবুল হোসেন (ভোরের কাগজ),মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (ইত্তেফাক), মোঃ হাতেম আলী (যুগান্তর), মোঃ আব্দুল হক লিটন (আমাদের সময়), ওমর ফারুক সুমন (মানবজমিন), মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল (দিনকাল), মোঃ সাইফুল ইসলাম, (মাতৃছায়া), আনছারুল হক রাসেল (আলোকিত সকাল), মুহাম্মদ মাসুদ রানা (নয়াদিগন্ত), মাজহারুল ইসলাম মিশুর(প্রতিদিনের সংবাদ), তরিকুল্লাহ আসরাফি (আজকালের খবর), আব্দুল মালেক (প্রথম ভোর) প্রমূখ।
সুত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেলতলী এলাকায় ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দ্বিতীয়বারের মতো অবরোধ করে। পরে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে রাখেন। এসময় যাত্রীবাহী গাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালায় শিক্ষার্থীরা। গত রবিবার ও সোমবার দুই দিনে ৪৮টি বাস, ট্রাক, পিক আপ-ভ্যান ও অটোরিকশা ভাংচুর এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় তারা। সকালে এ খবর পেয়ে ময়মনসিংহে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যায়। এসময় এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি শাহ আলম উজ্জ্বল, যমুনা টিভির ক্যামেরাম্যান দেলোয়ার হোসেন এবং মাটি ও মানুষের বার্তা সম্পাদক বিল্লাল হোসেন প্রান্তকে বেধড়ক মারপিট করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডি ও দি ডেইলি ট্রাইব্যুনালের ময়মনসিংহ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মো. মাসুদ রানা ও সাংবাদিক কামালের কাছ দুইটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
হালুয়াঘাটে মানববন্ধন চলাকালে সিনিয়র সাংবাদিক হাতেম আলী, বাবুল হোসেন ও ওমর ফারুক সুমন বক্তৃতায় বলেন, গত রবিবার ময়মনসিংহগামী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বাস ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেলতলি নামকস্থানে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সাথে ধাক্কা লাগে। রাস্তার পাশে ট্রাক দাঁড় করানোর অজুহাতে শিক্ষার্থীরা রবিবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এসময় বিভিন্ন যানবাহন ভাংচুর এবং অগ্নি সংযোগ করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলেও ফের সোমবার সকালে একই ঘটনার জেরধরে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা নিউজ কভারেজের জন্য গেলে তারা গতকাল ভুল সংবাদ প্রচার করেছে এই বলে রড দিয়ে পিটিয়ে সাংবাদিকদের গুরুতর আহত করে এবং ক্যামেরা, মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় বক্তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।
অপরদিকে এ ঘটনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় প্রায় ছয় শতাধিক অজ্ঞাত শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে। পৃথক এই তিনটির মামলার গুলোর মধ্যে, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি শাহ আলম উজ্জল বাদি হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় (১৪ মে) রাতে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির অভিযোগ এনে অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামী করা হয়। এদিকে ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি দীপঙ্কর সাহা বাদি হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় (১৫ মে) রাতে দায়ের করেছেন। এ মামলায় তিনি অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাংচুর ও ক্ষতির অভিযোগে পাঁচ শতাধিকশিক্ষাথীকেআসামীকরেছেন। এছাড়াও ত্রিশাল মোটর শ্রমিক ইউনিয়ের সভাপতি মোকাম্মেল হক বাদি হয়ে, ত্রিশাল থানায় যানবাহন ভাংচুর ও ক্ষয়ক্ষতিতে অর্ধ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগ এনে কমপক্ষে অজ্ঞাত ৬০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।


ঘোষনাঃ