ঢাকাThursday , 2 September 2021
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অপরাধ ও দুর্নীতি
  4. আইন ও আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকুরির খবর
  9. জাতীয়
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. নারী ও শিশু
  13. বিনোদন
  14. মুক্তিযুদ্ধ
  15. রাজনীতি

গল্প “মিশুর আত্মহত্যা” লেখক,মোশাহিদ আলী পর্বঃ৪

Link Copied!
ad

গল্প “মিশুর আত্মহত্যা”

লেখক,মোশাহিদ আলী
পর্বঃ৪
পল্লব স্যারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা দ্রুত স্যারের বাসা থেকে বেরিয়ে এলাম। স্যারের বাসা থেকে বেরোতেই মাগরিবের আজান শুনতে পেলাম। তাই আমরা আমাদের স্থানীয় বাজারের মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়লাম। পাচ ওয়াক্তের নামাজ মসজিদে পড়ার অভ্যাস মিশুর কারণেই আমাদের হয়েছিল। মিশু যেমন ছাত্র হিসেবে প্রখর মেধাবী ছিল তেমন একজন নম্র,ভদ্র,দয়ালু ও ধার্মিক ছেলে ছিল। আমি আর মুসা মাগরিবের নামাজ পড়ে দ্রুত বাড়ি ফিরলাম। আমি মুসাকে বলে দিলাম আগামীকাল ফজরের নামাজ পড়ে প্রথমে মিশুর কবর যিয়ারত করে নীল নিকেতনে যাব। মুসা আসবে বলে দ্রুত বাড়ি চলে গেল। আমি বাড়িতে এসে প্রথমেই হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বসলাম। বড় আপু আমাকে পড়ার টেবিলে দেখে এক কাপ চা দিয়ে গেলেন। আমি চা পান করে পড়ায় মনোযোগ দিলাম। কিন্তু কিছুতেই পড়ায় মন বসল না। বারংবার মিশুর কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। তখন হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে গেল। আমি বই রেখে অন্ধকার জানালার পাশে বসে আছি। আকাশ কালো মেঘে ডেকে গিয়েছে। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বোধহয় এখুনি বৃষ্টি আসবে। ঠান্ডা বাতাস বইছে। নিজেকে কেমন অসহায় লাগছে। ধীরে ধীরে ফুটা-ফুটা বৃষ্টি পরতে শুরু করল। আমি অন্ধকার ঘরে নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ হয়ে জানালার সামনে দাড়িয়ে আছি। আজ জানিনা কেন বৃষ্টি দেখতে খুবই বিষন্ন লাগছে। মুসা ও হয়তো অন্ধকার ঘরে নিশ্চুপ হয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বিষন্ন বৃষ্টি দেখছে। মুসা ও হয়তো নিরবে মিশুর কথা ভেবে চোখের পানি ঝরাচ্ছে। জানি না কেন মন খুলে খুব জোরে শব্দ করে কান্না করতে ইচ্ছে করছে। আজ মনের ভিতর এমন করছে কেন বুঝতে পারছিনা। মিশু মেঘলা দিন আর বৃষ্টি খুব ভালোবাসত। মাঝে মাঝে এমন হতো মিশু আকাশের মেঘের দিকে তাকিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যেত। বৃষ্টি হলেই মিশু আমাদের সাথে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজত। মুসা প্রায়শই বৃষ্টিতে ভিজতে মানা করতো। কিন্তু মিশু মুসাকে জোর করে,  ধস্তাধস্তি করে বৃষ্টি ভিজিয়েই ছাড়তো। আজ মিশু জীবিত থাকলে নিশ্চয়ই ফোন করে মুসা আর আমাকে ডেকে নিতো বৃষ্টিতে ভিজতে। কিন্তু আজ আর তা সম্ভব নয়। আমি এইসব মনে মনে ভাবছি । রাত নয়টা পর্যন্ত বৃষ্টি হলো। ততক্ষণ আমি সেখানেই দাড়িয়ে ছিলাম। তখন বড় আপু রাতের খাবার খেতে ডাকলেন। আমি নিজেকে সামলে  নিয়ে খাবার খেতে গেলাম। দ্রুত খেয়ে আসলাম। আবার পড়ার টেবিলে বসে মিশুর শেষ চিরকুটটা নিয়ে ভাবতে লাগলাম। কোনো সমাধান খুঁজে পেলামনা। ভাবতে ভাবতে কখন যে রাত ১১ টা হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি।  অনেক রাত হয়েছে দেখে আমি ঘুমাতে গেলাম। আমি শুয়ে আছি। হঠাৎ করে আমার মনের মাঝে আসল মিশু তার ধাধার দ্বিতীয় লাইনে বলেছে “যেথায় শুনতে পারি কবিমনের কথা”। আমার মনের মাঝে প্রশ্ন জাগলো কবিমনের কথা আমরা কোথায় শুনতে পাই? ঠিক তখনই আমার মনে পড়ল পল্লব স্যারের একটি কথা। স্যার প্রায়শই বলেন কবিরা তার মনের কথা,  চিন্তা-ভাবনা, ইচ্ছা-অনিচ্ছা সবকিছুই তার কবিতায় বিভিন্নভাবে ফুটিয়ে তোলেন। অর্থাৎ,  আমরা কবিতার মাঝে কবিমনের কথা শুনতে পাই। এর মানে মিশু “ঘরে-বাইরে” বইটি যেখানে রেখেছে তার সাথে কবিতার কোনো না কোনো যোগসূত্র রয়েছে। এই ব্যাপারটা সমাধান করার পর আমার মনের মাঝে অন্যরকম আনন্দ বোধ করলাম। রাত অনেক হয়েছে দেখে আমি ঘুমিয়ে পরলাম। পরের দিন সকালে খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমি ফজরের নামাজ পড়লাম। নামাজ পড়ে আপুকে বলে এক কাপ চা বানিয়ে খেলাম। চা খেয়েই আমি মুসাকে ফোন করে মিশুর কবরস্থানে আসতে বললাম। আমি মুসার আগেই সেখানে পৌঁছে গেলাম। আমার মনের মাঝে আজ ধাধা সমাধানের উদ্দীপনা অনুভব করলাম।  একটু সময়ের ভিতরে মুসা ও চলে আসল। আমি মুসাকে নিয়ে একসাথে মিশুর কবর যিয়ারত করলাম। কবর যিয়ারত শেষ করে মুসাকে নিয়ে দ্রুত মিশুর বাড়ির দিকে চললাম। মুসা খানিকটা অবাক হচ্ছে আমার তারাহুরো দেখে। মুসা কিছই জিজ্ঞেস করল না। কেননা সে জানে কিছু জিজ্ঞেস করে ফায়দা হবে না আমি এখন কিছুই বলবনা। তাই সে আমার পিছু পিছু নিরবে দ্রুত হাটতে শুরু করল। আমরা কিছুক্ষণের ভেতরেই মিশুর বাড়িতে পৌছলাম। তখন সবেমাত্র অন্ধকার কেটেছে। আমরা ভিতরে গিয়ে দেখলাম রমিজ কাকা বারান্দায় বসে অল্প আলোতে কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করছেন আর উনার স্ত্রী তসবিহ পড়ছেন। আমরা রমিজ কাকাকে সালাম দিলাম। তারা দু’জনই আমাদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে সালামের জবাব দিলেন। আমরা উনার কাছে বসে উনাদের খুজ খবর নিলাম। রমিজ কাকা আমাদের সাথে খুব সুন্দর করে কথা বললেন। তিনি আমাদের খুজ খবর নিলেন, আমাদের পড়ালেখা সম্পর্কে জানলেন। আমরা উনাকে সবকিছু বললাম। তারপর আমি বললাম যদি বিরক্ত বোধ না করেন তাহলে নীল নিকেতনের খুলে দেন, সেখানে আমাদের খুব জরুরি দরকার। উনি স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বললেন উনি বিরক্ত হচ্ছেন না বরং তিনি আমাদের দেখে খুশি হয়েছেন। রমিজ কাকার স্ত্রী বললেন নীল নিকেতন খোলা আছে। তাই আমরা সেখানে চলে গেলাম। নীল নিকেতনে ঢুকে আমাদের নির্দিষ্ট চেয়ারে গিয়ে আমরা দুজন বসলাম। সেখানে বসেই মুসা আমায় বলল- “আজ তোকে এত উৎফুল্ল দেখাচ্ছে কেন?”
আমি- “মনে হচ্ছে ধাধার একটি অংশের সমাধান করতে পেরেছি। আমার ধারণা বাকিটা এখানেই সমাধান করতে পারবো”।
মুসা আগ্রহের সাথে জিজ্ঞেস করল- “কীভাবে কী সমাধান করলে?”
আমি- “মুসা দেখ, মিশু তার ধাধার দ্বিতীয় লাইনে এমন একটা  জায়গার কথা বলেছে যেখানে আমরা কবিমনের কথা শুনতে পাই”।
মুসা- “হুম ওটাতো দেখেছি,  তারপর বল,,,”
আমি- “তোর মনে আছে পল্লব স্যার কবিদের সম্পর্কে কী বলেন?”
মুসা- “স্যারতো কবিদের সম্পর্কে অনেক কিছুই বলেন। এখন তুই কোন কথার কথা  বলছিস আমি কী করে জানব? তুই বুঝিয়ে বলনা”।
আমি- “আচ্ছা বলছি শোন, স্যার হামেশাই বলেন কবিরা তাদের মনের কথা, ইচ্ছা-অনিচ্ছা সবকিছুই তাদের কবিতায় তুলে ধরেন। অর্থাৎ,  আমরা কবিমনের কথা কবিতায় শুনতে পাই”।
মুসা অবাক হয়ে “ বা বাহ! তুই তো কামাল করেছিস। এখন বল কবিতার সাথে সকাল ও সন্ধেবেলা সূর্যের উদয় হওয়ার সম্পর্ক কী?”।
আমি- “সূর্যের উদয় হওয়ার সাথে কী সম্পর্ক তা এখনো জানতে পারিনি। কিন্তু একটা কথা স্পষ্ট সূর্যের উদয় হওয়ার সাথে কবিতার সরাসরি কোনো যুগসন্ধি রয়েছে”।
মুসা- “হুম, তারমানে এখন আমাদের কাজ হলো সকাল-সন্ধে কোথায় সূর্য উদয় হওয়া দেখা যায় তা খুঁজে বের করা”।
আমি- “হ্যাঁ,  এটা খুঁজে বের করতে পারলে আমরা সহজেই বুঝতে পারবো এর কবিতার সাথে কী সম্পর্ক রয়েছে। তখন আমরা জানতে পারবো কোথায় মিশু “ঘরে-বাইরে” বইটি লুকিয়ে রেখেছে”।
মুসা মুচকি হেসে বলল- “তুই ঠিক বলেছিস। সত্যিই তুই আর মিশু অনেক বড় গোয়েন্দা”।
আমি মৃদু হেসে বললাম- “হয়েছে আর গুণগান গাওয়া লাগবে না। আমরা গোয়েন্দা আর তুই কী? তুইতো আমাদের চেয়েও বড় গোয়েন্দা”।
মুসা- “কী যে বলছিস। আমার মাথায় কিছুই সহজে ঢুকে না। তুই আমাকে বলছিস গোয়েন্দা”।
আমি- “ আমি ঠিকই বলছি শুধু তুই মেনে নিচ্ছিস না”।
মুসা- “হয়েছে এই বিষয় নিয়ে আমরা পরে তর্ক করতে পারবো।  এখন খুঁজে বের কর কোথায় সন্ধেবেলাও সূর্যের উদয় হওয়া দেখা যায়?”
আমি- “হুম, চল তুই গিয়ে কবিতার বই যে আলমারিতে রাখা আছে সেখানে গিয়ে ভালোভাবে খোঁজ । সেখানে কিছু পাওয়া যেতে পারে। ততক্ষণে আমি দ্বিতীয় আলমারি টা খুঁজে দেখি”।
মুসা- “ওকে, আমি দেখছি”।
আমি আর মুসা দুটি আলমারি ভালোভাবে তন্নতন্ন করে খুজতে লাগলাম।  তখন রমিজ কাকার স্ত্রী এসে আমাদের চা বিস্কুট খাওয়ার জন্য দিয়ে গেলেন। তিনি আমাদের কিছুই জিজ্ঞেস করলেন না বা কিছুই বললেন না। শুধু আগে চা খাওয়ার কথা বলে চলে গেলেন। উনি আমাদেরকে অনেক দিন যাবত জানেন। উনি জানেন আমরা কোনো বিশেষ প্রয়োজনে এখানে এসেছি। তাই উনি আমাদের কিছু বলেননি । আমরা দুজন চা খেতে বসলাম। চা খেয়ে খেয়ে আমরা রমিজ কাকা ও উনার স্ত্রী আমাদের কতটুকু স্নেহ করেন,  ভালোবাসেন এবং আপনজন মনে করেন এসব গল্প করছি। তখন আমি লক্ষ করলাম মুসা কী যেন আনমনে অপলক দৃষ্টিতে দেখছে। আমি ভালোভাবে লক্ষ্য করলাম মুসা টেবিলের সামনে দেয়ালে ঝুলানো “ভোরের আলো” নামক দেয়াল পত্রিকা দেখছে। এই দেয়াল পত্রিকাটি মিশু, আমি, মুসা এবং পল্লব স্যারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি করেছিলাম । এই দেয়াল পত্রিকায় আমাদের লেখা অনেকগুলি ছড়া, কবিতা ছিল। দেয়াল পত্রিকাটি আমরা চারজন মিলে আর্ট করেছিলাম। চারিদিকে ফুলের চিত্র আর আকা। উপরে বড় করে বিভিন্ন রং দিয়ে সাজিয়ে শিরোনাম নাম লিখা “ভোরের আলো”। পল্লব স্যার শিরোনামের সাথে মিল রেখে খুব সুন্দর করে ঠিক মধ্যখানে সূর্যের উদয় হওয়ার চিত্র এঁকেছিলেন। এই দেয়াল পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন হয় আমাদের স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে। দেয়াল পত্রিকায় দিকে মুসা তাকিয়ে আছে দেখে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম – “তুই এতো মনোযোগ সহকারে কী দেখছিস?”
মুসা আমার দিকে তাকিয়ে বলল- “দেয়াল পত্রিকাটি দেখছি। ধূলো পরে ময়লা হয়ে গেছে। কয়েকদিন ধরে হয়তো এটি মুছা হয়নি”।
আমি- “হুম, মিশু সবসময় পরিষ্কার করে রাখতো। এখন মিশুও নেই কে পরিষ্কার করবে?”
মুসা- “হুম, মিশু কত সুন্দর করে সবকিছু গুছিয়ে রাখতো আমরা তা কখনোই পারবো না”।
আমি- “ঠিকই বলেছিস”।
মুসা- “ আজ বাড়ি যাওয়ার আগে দেয়াল পত্রিকাটি পরিষ্কার করে যেতে হবে”।
আমি- “হুম, রমিজ কাকাকেও বলে যেতে হবে কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমাদের জানাতে”।
আমি মুসার সাথে কথা বলতে বলতে লক্ষ করলাম সে আমার কথা কর্ণপাত না করে হঠাৎ করে কি যেন ভাবতে লাগলো। আমি অবাক হলাম না। কেননা মুসার এটি একটি পুরনো অভ্যাস। সে মাঝে মধ্যে আলোচনার মাঝখানে যেকোনো একটি বিষয় নিয়ে ধ্যানমগ্ন হয়ে পরে। আমি চুপচাপ মুসার দিকে তাকিয়ে আছি। আমি জানতাম হঠাৎ করে মুসা অদ্ভুত কিছু বলবে যা শুনে তাকে দৌড়িয়ে মারতে ইচ্ছে করবে। এটাও তার আরেকটা খুপ খারাপ অভ্যাস।  যার জন্য মুসা বহুবার মিশুর কাছে অনেক কথা শুনেছে। আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম মুসা কি বলবে তা শোনার জান্য। মুসা হঠাৎ করে আমায় বলল- “ধাধার উত্তর পেয়েছি!”
আমি অবাক হয়ে ফাইজলামি করে বললাম- “সত্যি! তুই ধাধার উত্তর পেয়েছিস?”
মুসা কপট রেগে গিয়ে বললো- “আমি মজা করছি না।  সত্যিই আমি ধাধার উত্তর খুজে পেয়েছি”।
আমি হেসে বললাম-  “আচ্ছা, তাহলে বল ধাধার উত্তর কী?”
মুসা- “তুই কিন্তু আমাকে নিয়ে মজা করছিস”।
আমি একটু সিরিয়াস হয়ে বললাম- “নাহ মোটেই আমি তোকে নিয়ে মজা করছি না। তুই বল ধাধার উত্তর কী?”
মুসা- “মিশু আমাদের যে ধাধা দিয়েছে তার প্রথম লাইনে কী বলেছে?”
আমি- “সকাল কিংবা সন্ধেবেলা,,, যেথায় দেখিতে পারি সূর্য উদয় হওয়া”।
মুসা- “ঠিক। এখন তুই “ভোরের আলো” দেয়াল পত্রিকাটি দেখে আমায় বলতো সেখানে শিরোনামের নিচে কীসের চিত্র আকা রয়েছে?”
আমি মৃদু হেসে বললাম- “তোর শাশুড়ীর ছবি আঁকা রয়েছে”।
মুসা রেগে গিয়ে- “ফাইজলামি না করে বলনা কীসের ছবি আঁকা আছে?”
আমি- “ওকে বলছি, এখানে সূর্য উদয় হওয়ার ছবি আঁকা রয়েছে”।
মুসা- “হুম, এখন কিছু বুঝলে?”
আমি অবাক হয়ে আগ্রহ নিয়ে বললাম- “ নাহ, কিছুই বুঝতে পারিনি। তুই বুঝিয়ে বলনা”।
মুসা- “ বুঝিয়ে বলছি শোন, আমরা সবাই জানি প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে সূর্য প্রতিদিন ভোরে পূর্ব দিকে উদয় হয়। কিন্তু আমরা সন্ধেবেলা কখনোই সূর্য উদয় হতে দেখতে পারিনা।  সন্ধেবেলা সূর্যাস্ত দেখা স্বাভাবিক কিন্তু সূর্য উদয় হওয়া দেখা অসম্ভবও বটে”।
আমি- “এগুলো আমিও জানি। তুই এখন আসল কথা বল”।
মুসা- “আসল কথাই বলছি। এই কথাগুলো এর সাথে জড়িত তাই এগুলো বলছি”।
আমি আগ্রহ নিয়ে বললাম- “হুম, তুই বল আমি শুনছি”।
মুসা আবার বলতে শুরু করল-  “সন্ধেবেলা সূর্য উদয় দেখা যদিও অসম্ভব ব্যাপার কিন্তু নীল নিকেতনে তা অসম্ভবব্যাপার নয়”।
আমি আংগুলের মাঝে পেন্সিল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করলাম- “কীভাবে?”
মুসা- “নীল নিকেতনে অসম্ভব ব্যাপার নয়। কারণ,  নীল নিকেতনে ভোরের আলো নামক দেয়াল পত্রিকায় সূর্য উদয় হওয়ার চিত্র অংকন করা আছে। যার ফলে এখানে সকাল,  দুপুর ও সন্ধেবেলা কিংবা গভীর রাত্রিবেলাও সূর্য উদয় দেখা যায়”।
আমি অবাক হয়ে বললাম- “তুই ঠিকই বলেছিস।  এখানে সূর্য উদয় যেমন দেখা যায় ঠিক তেমনিভাবে কবিমনের কথাও শুনা যায়। ঐ কবিতাগুলোর মাধ্যমে”।
মুসা- “হ্যাঁ, এখানে সকাল কিংবা সন্ধেবেলা সূর্য উদয় যেমন দেখা যায় তেমন কবিমনের কথাও শুনতে পাওয়া যায়”।
আমি- “অর্থাৎ,  এখানেই মিশু ঘরে-বাইরে বইটি লুকিয়ে রেখেছে”।
মুসা- “হ্যাঁ,  এখানেই সত্য লুকিয়ে রাখা আছে। যে সত্য আমরা খুজছিলাম। এখানেই লুকিয়ে রয়েছে মিশুর মৃত্যুর রহস্যের সমাধান”।
আমি মুসার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে তার কথাগুলি শুনছিলাম। আমি মুসাকে কী বলব খুজে পাচ্ছি না। খুশিতে আমার চোখে জল এসে গিয়েছে। আমি চেয়ারে বসা থেকে উঠে মুসাকে জড়িয়ে ধরি। সে-ও আমার মতো আবেগপ্রবণ হয়ে যায়। মুসা চোখের পানি মুছে আমায় বলল দেয়াল পত্রিকার কাছে গিয়ে দেখতে মিশু কোথায় “ঘরে-বাইরে” বইটি লুকিয়ে রেখেছে। তাই আমরা দুজন দেয়াল পত্রিকাটি দেয়াল থেকে নামিয়ে টেবিলে রাখলাম।  আর সাথে সাথে দেয়াল পত্রিকার পিছনে আটকানো “ঘরে-বাইরে” বইটি দেখলাম। আমাদের অনেক ভালো লাগছে। আমরা যেন কোনো যুদ্ধে বিজয়লাভ করেছি। আমার খুব আনন্দ লাগছিলো। মুসা আমায় বলল- “অবশেষে আমরা বইটি খুজে বের করতে পারলাম”।
আমি- “হুম, শুধুমাত্র তোর জন্য এটা সম্ভব হলো। আমিতো কোনো পথ খূঁজে পাচ্ছিলাম না”।
মুসা- “শুধু আমার জন্য না। আসলে তুই যদি কবিতার কথা আগে না বলতে তাহলে সূর্য উদয় হওয়ার ব্যপার আমার চোখে ই পড়তো না”।
আমি- “তুই সত্যিই একটা জিনিয়াস”।
মুসা- “এখন কিন্তু তুই বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলছিস”।
আমি- “যা সত্য আমি তাই বলছি”।
মুসা- “আচ্ছা তুই সত্য বলার অনেক সময় পাবে। এখন দ্রুত দেখ বইয়ের ভিতরে কী আছে?”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।