ঢাকাWednesday , 8 September 2021
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অপরাধ ও দুর্নীতি
  4. আইন ও আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকুরির খবর
  9. জাতীয়
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. নারী ও শিশু
  13. বিনোদন
  14. মুক্তিযুদ্ধ
  15. রাজনীতি

গল্প “মিশুর আত্মহত্যা” লেখক,মোশাহিদ আলী ….শেষ পর্ব

Link Copied!
ad

গল্প “মিশুর আত্মহত্যা”

লেখক,মোশাহিদ আলী
….শেষ পর্ব….
মুসার কথায় আমি বইটি খুললাম। আমি উপন্যাসের শুরুতেই লেখা দেখলাম বিমলার আত্মকথা। সাথে সাথেই আমার মনে পরে গেল মিশু আমাদের প্রথম ধাধার মাঝে বলেছিল যে পাতার শুরুতে বিমলার আত্মকথা রয়েছে এরপরের পাতায় রয়েছে তার (মিশুর) মৃত্যুর কথা। তাই আমি দ্রুত পরের পাতা উল্টিয়ে দেখলাম। সেখানে কয়েক পৃষ্ঠার একটি বড় চিঠি পেলাম। আমাদের বুঝতে বাকি রইল না এখানেই মিশু তার মৃত্যুর কারণ বর্ণনা করেছে। তাই মুসা আগ্রহের সাথে আমাকে বলল চিঠি তে কী লেখা রয়েছে তা তারাতাড়ি পড়তে। আমি চিঠি খুলে পড়তে শুরু করলাম। চিঠিতে এইরকম লেখা ছিল-
“ অবশেষে তোমরা সফল হলে। তোমাদের উপর আমার শতভাগ বিশ্বাস ছিল তোমরা সফল হবে। আমি জানি তোমরা আমার জন্য যেকোনো কিছু করতে পারবে। এই ভরসা ছিলা বলে তোমাদের সাথে এই খেলাটি খেললাম। আমায় ক্ষমা করে দিও। এখন আর ভনিতা না করে সরাসরি শুরু করি কেন আমি এইসব করেছি। আমি জানি তোমরা অতি আগ্রহী হয়ে অপেক্ষা করছ আমার মৃত্যুর কারণ জানতে,,,
বাস্তবতা কল্পনার চাইতেও বিচিত্র হয়। আমি তোমাদের এমন এক বাস্তব কথা বলছি যা শুনার পর তোমরা অনেক অভাক হবে এবং আমাকে হয়তো খারাপ ও ভাবতে পারো। কেননা আমি তোমাদের কাছ থেকে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় একটা বিষয় লুকিয়েছি।
তোমরা জানতে যে আমি প্রেম ভালোবাসা এগুলো খুব একটা পছন্দ করতাম না। আমি সত্য ও পবিত্র প্রেমে বিশ্বাস করতাম। কিন্তু সেই আমার জীবনে ঠিকই অন্য সবার মতো প্রেম এসেছিল। তোমাদেরকে আমি এই ব্যাপারে কিছুই জানাই নি। অনেকবার ভেবেছিলাম তোমাদের সবকিছু বলবো। কিন্তু বলবো বলবো বলে আর বলা হয়নি। প্রথমে বলিনি তোরা আমার সাথে মজা করবি ভেবে। পরে আরো বিভিন্ন কারণে বলা হয়নি। যাইহোক, আমরা যখন এস,এস,সি পরিক্ষায় পাশ করে এস,পি,বি কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হলাম তখন অব্দি আমার জীবনে প্রেম ভালোবাসা সম্পর্কে পূর্বের মতো নেতিবাচক ধারণাই ছিল। কিন্তু যখন কলেজে এসে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করে আমাদের ক্লাসের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের কাছে খুব ভালো করে পরিচিত হলাম। তখন পড়ালেখা সহ বিভিন্ন কার্যক্রমের বদৌলতে আমাদের ৩ জনের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে আমাদের ক্লাসের মিম,আফরিন,জুঁই,রিয়া চারজনের। যদিও একাদশ শ্রেণিতে থাকতে তাদের সাথে শুধু ফ্রেন্ড হিসেবে পরিচয় হয়। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণিতে যখন উত্তির্ন হই তখন তাদের সাথে সবচেয়ে আলাদা একটা সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঠিক তখনই আমি বুজতে পারি আমি কারোর প্রতি দুর্বলতা অনুভব করছি। সে আর কেউ নয় আমাদের সবার পরিচিত মিম এর প্রতি। তোমরা যদিও এই বিষয় জানতে না তবুও ক্লাসের সবাই সন্দেহ করতে আমার আর মিমের মাঝে কোনকিছু আছে বা হবে। কারণ মিম সবসময় আমাকে গুরুত্ব দিত এবং আমিও অন্য সবার চাইতে তাকে গুরুত্ব দিতাম।
জানিস কখন আমি বুঝতে পারি মিমের প্রতি দুর্বলতা অনুভব করছি? মনে আছে মিম আর আফরিন একবার চার-পাচ দিন কলেজে আসেনি। তখন আমি জানিনা কেনো অদ্ভুত ভাবে মিম আসছেনা দেখে মনের ভিতর কষ্ট হতো, আমার যেনো পড়ালেখায়, কলেজের আসা যাওয়া, ক্লাস করায় কোনো মনোযোগ ছিলনা। প্রথমে ভেবেছিলাম সবসময় মারামারি, ঝগড়াঝাটি করতাম বলে হয়তো তাকে মিস করছি। যাইহোক পরে শুনলাম ওর মা মারা গিয়েছেন বলে আসছে না কলেজে। জানিনা কেনো তখন থেকে তার জন্য খুব বেশি কষ্ট লাগছিল। অবশেষে যখন সে কয়েকদিন পর কলেজে আসলো এবং স্বাভাবিক ব্যবহার করার চেষ্টা করতো তখন থেকেই তার প্রতি অদ্ভুত এক মায়া কাজ করতো আমার মনে। তখনও আমি ভেবেছিলাম এসব হচ্ছে সবচেয়ে কাছের বন্ধু হিসেবে। কিন্তু না এটা আমার ভুল ধারণা ছিল। সবাই যেমনটা আমদের সম্পর্কে ভাবতো সেটাই সঠিক ছিল। সে ও আমাকে মনে মনে ভালোবাসতো কিন্তু সাহস করে বলেনি কখনো। কারণ সে ও জানতো আমি এসব পছন্দ করিনা। আস্তে আস্তে আমাদের এইচ,এস,সি পরিক্ষার সময় আসলো। তখনো কেউ কাওকে মনেরকথা বলিনি। আমি তাকে ভালোবাসি সম্পূর্ণরুপে বুঝতে পারলাম যখন আমাদের বিদায়ী অনুষ্ঠান শেষ হলো। তখন আর আমাদের প্রতিদিন দেখা কিংবা আড্ডা দেয়া, ঝগড়া করা এসব হতো না। সবাই পরিক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত।  ঠিক এই সময়ে আমি বুঝতে পারি আমি মিম কে ভালোবাসি। কারণ আমি তাকে না দেখতে পেরে খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম, খুব বেশি মিস করছিলাম। তখনই সবচেয়ে দুর্বলতা অনুভব করি। আর বুঝতে পারি তার প্রতি আমার ভালোবাসার কথা। তখনও আমি এসব তোমাদেরকে বলিনি। শুধু মুসার কাছে মিম এর মোবাইল নাম্বার ছিলো । আমি একদিন মুসার কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে একটা মেসেজ দেই আমার পরিচয় লিখে। তখন সে জানিনা কেন বড্ড অভিমান করে আমার সাথে কথা বলল এতোদিন কেন কোনো যোগাযোগ করলাম না। তারপর থেকে আমাদের প্রতিদিন যোগাযোগ হতো। তোমাদের দুজনকে লুকিয়ে লুকিয়ে আমি সবসময় কথা বলতাম মেসেজ এর মাধ্যমে। আমাদের এইচ,এস,সি পরিক্ষার চার-পাচ দিন আগে মিমের সাথে যোগাযোগ শুরু হয়। অল্পদিনের যোগাযোগের মাঝে আমরা আমাদের মনের কথা একজন আরেকজনকে জানিয়ে দেই ১৪ ই এপ্রিল ২০২০ ইং, পহেলা বৈশাখের দ্বি-প্রহরে , ঠিক রাত দুইটার সময়। নাটকীয় ভাবে আমরা একজন আরেকজনকে নিজের মনের কথা জানাই। যাইহোক সেই থেকে আমাদের নতুন সম্পর্কের পথচলা শুরু হয়। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। আমরা খুব হাসি খুশি ছিলাম। আমাদের মাঝে দীর্ঘ তিন বছর খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তিন বছর পর আমাদের মাঝে ঘটে বিপত্তি। আমাদের জীবনের চরম বিপর্য নেমে আসে। যদিও আমরা কাউকে জানাইনি আমাদের সম্পর্কের কথা, কিন্তু তিন বছর পর মিমের পরিবারের সবাই জেনে যায় আমাদের সম্পর্কের কথা। তখন আমার পরিবারও জেনে গিয়েছিল। কিন্তু আমার পরিবার জানাতে কিছু হয়নি। মিমের পরিবার সবকিছু জানায় ঘটে আসল বিপত্তি। প্রথমত তার পরিবার আমাদের সম্পর্ককে মেনে নেয়নি। তারপর মিমের পড়ালেখাও বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের দেখা করা ও কথা বলা অনেকদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু তারপর আবারও মিম লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলা যোগাযোগ করতে শুরু করলো। যোগাযোগ বন্ধ থাকাকালীন সময় আমি অন্যান্যদের কাছ থেকে মিমের খুঁজ-খবর রাখতাম। সে ও একইভাবে আমার খুজ রাখতো। যাইহোক আবার আমাদের সবকিছু আগের মতো ঠিকঠাক হয়ে যায়। কিন্তু তাকে আর পড়তে দেয়া হয়নি। সবসময় থাকে মানসিক চাপে রাখা হতো। তার স্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিলনা। আর আমি এসবের জন্য নিজেকে দায়ী মনে করতাম। যদিও মিম কখনো আমাকে দায়ী করে নি এবং করবেও না। যাহোক আরো ছ’মাসের মতো সবকিছু ঠিক ছিল। ছ’মাস পর আবার তার পরিবারের সবাই বুঝতে পারেন আমার সাথে সে যোগাযোগ করে। তাই মিমের পরিবার আবারও থাকে বিভিন্নভাবে অপমান, কঠোর শাসন ও মানসিকভাবে চাপে রাখতো। কিন্তু মিম তবুও আমার সাথে লুকিয়ে যোগাযোগ করতো। এইসব হাওয়ার পনেরো দিনের দিকে একদিন সে আমায় বললো তার পরিবার একটা অশিক্ষিত ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক করেছেন। তখন আমার পক্ষে সম্ভব ছিলনা মিমকে নিয়ে কিছু ভাবতে। সেও বুঝতে পারে আমার অপারগতা তাই সে আমায় কোনো ধরনের চাপ দেয়নি। আমাদের দুজনের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখতে পারছিলাম। যা আমাদের দুজনের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব ছিলনা। বিশেষ করে আমি মনে করতাম আমার জন্য মিমের জীবন ধ্বংস হচ্ছে। মিম বিয়ের কথা বলে আমায় জানালো সে এই বিয়ে করতে পারবে না এবং আমাকেও এখন চাপ দিতে পারবেনা। তাই সে নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিলো। আমি তাকে অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু সে বুঝেনি। অবশেষে আমরা দুজনেই একই সিদ্ধান্ত নিলাম। যদিও সে আমায় মানা করেছিল। যাহোক তোদের আমি কাউকে এসব বলিনি। নিজে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিলাম কিন্তু আমি বারংবার নিজের বিবেকের কাছে হেরে গিয়েছি। আমার জন্য মিমের জীবন ধ্বংস হলো এবং সে মরবে আর  আমি বেচে থাকবো তা আমি কখনোই মেনে নিতে পারতাম না।  তাই আমরা দুজনেই একই ভাবে একই সময়ে নিজেদের শেষ করি। তোদের সাথে মিম কিংবা আফরিন,জুঁই,রিয়া কারোর যোগাযোগ নেই তাই মিমের মৃত্যুর কথা জানতে পারিসনি হয়তো। তোরে খুজ নিয়ে দেখ আমি যেদিন মারা গেলাম সেদিনই সেও মারা যায় একইভাবে। আমরা জানি আমরা ভুল করেছি কিন্ত আমাদের আর কিছুই করার ছিলো না। এভাবেই আমাদের ভালোবাসা হেরে গিয়েছিল বাস্তবতার কাছে। আমি জানি এসব শুনে তোমাদের দুজনের অনেক কষ্ট লাগবে আমি এসব কেন বলিনি ভেবে। তোরা পারলে আমায় মাফ করিস। এইসব বলিনি তাই জীবনের শেষ লেখাটি তোদের জন্য লিখে গেলাম। আমাদের সকল কার্যক্রম তোরা অব্যাহত রাখিস্। আমাকে তোদের কাজের মাঝে খুজে পাবে। আব্বু আম্মুকে খেয়াল রাখিস। আর নিজেরা ভালো থাকার চেষ্টা করিস। আর এই ব্যাপারে কোনোকিছু আমার আব্বু আম্মুকে কোনোদিন বলবিনা। শুধু তোরাই এই ব্যাপারে জানবি আর কেউ জানবে না।
ইতি
তোদের বন্ধু
মিশু
চিঠিটা পরছিলাম আর আমাদের দুজনের চোখের পানি অনর্গল পরছিল। কেউ কোনো কথা বলতে পারছিলাম না। আমাদের ভাবতেই অবাক লাগছিলো এতোকিছু ঘটেছে অথচ আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি, কিছুই জানতে পারিনি। মিশু কিভাবে সকল সমস্যা, দুঃখ, কষ্ট একা সহ্য করলো এতদিন। নিস্তব্ধ হয়ে কতক্ষন বসেছিলাম জানিনা। তারপর আমরা মিশুর চিঠিতে বলা কথা অনুযায়ী মিমের ব্যাপারে খুজ নিলাম। সত্যিই একই দিনে একইভাবে একই সময়ে মিম ও মারা গেছিল সেদিন। তারা তাদের ভালোবাসা প্রমাণ করে দিয়ে গেলো। আমি আর মুসা শুধু কান্না করছিলাম আর কিছুই বলতে পারিনি। তারপর আমরা রমিজ চাচা কিংবা উনার স্ত্রী কে এই ব্যাপারে কিছু না বলে বাড়িতে চলে আসলাম। আমরা আমাদের সবচেয়ে কাছের এবং সবচেয়ে প্রখর বুদ্ধিমান বন্ধুকে হারিয়ে ছন্নছাড়া হয়ে গেলাম। অতঃপর আমরা আবারও মিশুর কথামতো আমাদের কিছু কার্যক্রম ছিলো সেগুলো করতে লাগলাম। আমরা মিশুকে আমাদের কাজের মাঝেই খুজে পাই। আরেকটা কথা স্পষ্ট বুঝতে পারি গভীর ভালোবাসা কী। এভাবেই আমাদের সমাজে অনেক যুবক যুবতীদের প্রাণ অকালে হারাচ্ছে পরিবারের কঠোর শাসন এবং সমাজ ব্যবস্থার কারণে। যদি মিশু ও মিমের পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তাগিদ দিতো হয়তো আজ মিম ও মিশু হাসি-খুশি ভাবে আমাদের কাছে থাকতো। আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কারণে এভাবেই হাজারো মিশু মিমের মৃত্যুর খবর আমরা শুনতে পাই। আমাদের জীবন আবারও স্বাভাবিক হতে লাগলো। তবে মিশুর জায়গায়টা এখনো অপূরনীয় রয়ে গেলো।
(সমাপ্ত)

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।