দুই হাজার একুশ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে এমনটিই সকলের প্রত্যাশা। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের গৌরবের বিষয় হবে।বিগত উনপঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হারে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এবং এই স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশটি উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদাও লাভ করেছে।দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই উনপঞ্চাশ বছরে বেসরকারি শিক্ষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোন প্রকার কার্যকর  পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যেটুকু পরিবর্তন হয়েছে সেটা কেবল নীতিগত পরিবর্তন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বেসরকারি বর্তমানে শিক্ষকদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুঃখ-দুর্দশা আর হতাশা। একজন বেসরকারি শিক্ষক ও সরকারি শিক্ষকের মধ্যে পাহাড়সম অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরাজমান যা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। অথচ উভয়ই একই সমতলে কাজ করে জাতীয় উন্নয়ন ও জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। টেকসই জাতি বিনির্মাণে শিক্ষকদের ভূমিকা অস্বীকার করার কোন কারণ নেই।বেসরকারি শিক্ষকগণ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করার জন্যে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছেন কিন্তু দুঃখের বিষয় কেউ তাঁদের কথা শোনেননি। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে মানবতার জননী জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদেরকে তাঁদের দাবী-দাওয়া আদায়ের জন্যে রাজপথে নামতে হবে না।বেসরকারি শিক্ষকগণ আশায় বুক বেঁধে ছিলেন যে এবার শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ নিশ্চিত। সময়ের অপেক্ষামাত্র। কারণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ খ্রিস্টব্দে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের প্রাথমিক শিক্ষা সফলতার সাথে জাতীয়করণের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাদ-বাকি সকল প্রাথমিক বিদ্যায় জাতীয়করণের আওতায় নিয়ে আসেন। তাই বেসরকারি শিক্ষকগণ মনে করেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারবেন বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে।বিশ্বের ক্ষমতাধর সরকার প্রধানদের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন অন্যতম নেতা। তিনি বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পিছ পা হননি। আজ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান।বর্তমানে জাতীয় উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ছাড়া আর কোন বড় ধরনের জাতীয় ইস্যু নেই। তাই বেসরকারি শিক্ষক সমাজ তথা দেশের শিক্ষার্থী অভিভাবকদের একটিই দাবী শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা।শিক্ষব্যবস্থা জাতীয়করণ করলে কেবল শিক্ষকরাই উপকৃত হবেন তা নয়। দেশের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বেশি উপকৃত হবেন। সবচেয়ে বড় যে উপকার সাধিত হবে তা হলো জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এর ফলে দেশের নাগরিকগণ যথার্থ শিক্ষিত হয়ে নিজকে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন ফলে জাতীয় দুর্নীতি ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকবে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, আদর্শ ও নৈতিকতায় বিশ্বের প্রথম সারির দেশ হিসেবে উন্নীত হবে।নিম্নে আমি বেসরারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ সম্পর্কিত একটি হিসাব তুলে ধরলামঃএক নজরে জাতীয়করণের খরচ সম্পর্কিত হিসাবঃ
এম, পিও,ভুক্ত/ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হলে সরকারের অতিরিক্ত কেনো অর্থ  খরচ হবে না বরং সরকারি কোষাগারে বার্ষিক জমা হবে দেড়শত কোটি টাকার উপরে।
 বাংলাদেশে মোট বেসরকারি  এম,পি,ও,ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাঃ* কলেজঃ৪০০৭ টি।*মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ১৯৮৪৮ টি।*মাদ্রাসাঃ ৯৩৪১ টি।*কারিগরিঃ ৫৮৯৭ টি।*সর্বোমোটঃ ৩৯০৯২ টি।
#মোট শিক্ষকঃ*কলেজঃ ১১৭৩৩৭ জন,*মাধ্যমিকঃ২৪৩৫৫৩ জন,*মাদ্রাসাঃ১১৩৩৬৮ জন,*কারিগরিঃ৩২৩৭৮জন,**সর্বমোট শিক্ষকঃ ৫০৬৬৩৭ জন।
#শিক্ষার্থীর সংখ্যাঃ*কলেজঃ ৩৭,৬৭,৭৮৪ জন,*মাধ্যমিকঃ ৯১,৬০,৩৬৫ জন,*মাদ্রাসাঃ ২৪,৬০,৩০৫ জন,*কারিগরিঃ৮,৭৫,২৭০ জন।#সর্বমোট শিক্ষার্থী সংখ্যাঃ ১,৬২,৬৩,৭২৪ জন,।
প্রতি শিক্ষার্থী মাসিক ২০ টাকা হিসাবে বেতন দিলে  বার্ষিক আয় হবে ১৬২৬৩৭২৪*২০*১২= ৩৯০ কোটি টাকা। ভর্তি/ সেশন ফিস শিক্ষার্থী প্রতি গড়ে ৪০০ টাকা নিলে আয় হবেঃ ১৬২৬৩৭২৪*৪০০= ৬৫০ কোটি টাকা।অন্যান্য আয় প্রতি প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ৫০ হাজার ধরে,৩৯০৯২*৫০,০০০=২০০ কোটি। সরকার বর্তমান এম,পি,ও,বাবদ বার্ষিক প্রদান করেঃ ১৪২৫ কোটি  টাকা।জাতীয়করণ করলে ১ বছরে প্রয়োজন পড়বেঃ ২৫০০ কোটি টাকা 
সরকারের বার্ষিক আয়হবেঃ(১৪২৫+৩৯০+৬৫০+২০০)=২৬৬৫কোটি টাকা।বার্ষিক ব্যয় মোটঃ ২৫০০ কোটি টাকাবার্ষিক মুনাফা হবে,(২৬৬৫-২৫০০)কোটি = ১৬৫ কোটি টাকা।এছাড়া প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে সাধারণ তহবিলে গড়ে জমা আছে ১ লক্ষ টাকা হিসেবেঃ৪০০ কোটি টাকা। 
উপরোল্লিখিত হিসেব অনুযায়ী সরকারের ১৬৫ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে।  ফলে শিক্ষক,অভিভাবক, শিক্ষার্থী সকলেই লাভবান হবেন।বর্তমানে বেসরকারি  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে হারে সেশন ফি ও মাসিক বেতন নেওয়া হয় তা উপরের হিসেবের প্রায় ২০ গুণ বেশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাই পারেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে শিক্ষকদের কাজের নিরাপত্তা বিধান করতে। দেশের খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানদের কম বেতনে সরকারি স্কুলে পড়ার সুযোগ করে দিতে।
লেখকঃ মোঃ আবু বাকার ছিদ্দিক          সহকারি শিক্ষকবলদীঘাট জে. এম. সরকার উচ্চ বিদ্যালয়               শ্রীপুর -গাজীপুর                       ও       কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকবাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (নজরুল)

SHARE