ঢাকাMonday , 5 October 2020
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অপরাধ ও দুর্নীতি
  4. আইন ও আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকুরির খবর
  9. জাতীয়
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. নারী ও শিশু
  13. বিনোদন
  14. মুক্তিযুদ্ধ
  15. রাজনীতি

বিশ্ব শিক্ষক দিবস – বনাম  – জাতীয়করণ 

Link Copied!
ad

 আজ সমগ্র  বিশ্বের  শিক্ষকদের জন্য একটি ঐতিহাসিক  দিন।  আজ ৫ অক্টোবর।  বিশ্ব  শিক্ষক দিবস।  শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অবদানকে স্মরনীয় করতে এ দিবস পালন করা হয়।      আজ আমরা বেসরকারি  শিক্ষকগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে শিক্ষকদিবস পালন করছি। কিন্তু স্বাধীনতার  পর অর্ধ শতাব্দী  পর হলেও এদেশে শিক্ষকদের অধিকার আজও প্রতিষ্ঠিত হয় নি।  বাস্তবায়িত  হয়নি জাতির জনকের স্বপ্ন।  প্রাথমিকের পর মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ  তার স্বপ্ন ছিল। একবিংশ  শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ  মোকাবিলায় তথ্যপ্রযুক্তির নতুন নতুন জ্ঞান আহরণে  এবং জাতির জনকের এ সোনার বাংলায়  শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল বৈষম্য ও বিভেদ দুরীকরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ  একটি সময়ের দাবী।   দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, দেশ যেখানে ক্ষত -বিক্ষত, অর্থনীতির চাকা  অচল, সেই  সময়টিতে জাতির জনক প্রাথমিক শিক্ষার ভীত শক্ত করার জন্য দেশে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোকে একযোগে জাতীয়করণ  করে তার দূরদর্শী  সাহসীকতার স্বাক্ষর  রেখেছিলেন, যার সুফল পাচ্ছে দেশবাসী ।  আবার সে ধারা  বাহিকতায়  জাতির জনকের পদাঙ্খ অনুসরন করেন তারই স্নেহাস্পদ  মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী , মাদার অব হিউম্যানিটি জননেত্রী  শেখ হাসিনা, ২৬হাজার রেজিষ্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ  করে আরেকটি নজীর বিহীন  দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।  স্বাধীনতার ৪৯ বছর পারেও মাধ্যমিক থেকে তদ্ধূর্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ  হবেনা একথা ভাবা যায় না।

বিগত ৪৯ বছরে দেশে অনেক পরিবর্তন সাধীত হয়েছে।   কিন্তু ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি শুধু এদেশের বেসরকারি  শিক্ষকদের।  একজন পিয়নের বেতন একজন বেসরকারি  শিক্ষদের চাইতেও বেশী।দেশ অর্থনৈতিক ভাবে বেশ সমৃদ্ধ।  নিজস্ব  অর্থায়নে দেশে দীর্ঘতম সেতু “পদ্মা  সেতু ” নির্মিত হতে যাচ্ছে।  মহাকাশে সাটেলাইট বঙ্গবন্ধু- ১ উৎক্ষেপিত হয়েছে।  রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ  কেন্দ্র স্থাপন যা পণ্য উৎপাদন সহ দেশের অর্থনীতিতে আনবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, শিক্ষাক্ষেত্রে, এসেছে অামুল পরিবর্তন।  করোনার এ মহামারিতে সমগ্রবিশ্ব যেখানে স্তব্ধ, শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে ধরাশায়ী, পিতামাতা যেখান সন্তানদের ভবিষৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন , সেখানে আমাদের সন্তানদের শিক্ষার মূল ধারায় ধরে রাখতে চালু হয়েছে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম। সরকারি  বেসরকারি  সকল শিক্ষকগণ  এই অনলাইন পাঠদানে অংশ গ্রহণ করছে। ক্লাশ গুলোকে প্রানবন্ত করতে সরকারি – বেসরকারি  সকল শিক্ষকের প্রানান্ত চেষ্টা অব্যাহত। শ্রেণি পাঠদান দেখলে সরকারি – বেসরকারি  পার্থক্য বোঝার উপায় নেই।  অথচ বেতনের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য। একই দেশে বসবাস করে একই সিলেবাস পড়িয়ে, একই কর্ম ঘন্টা অনুসরণ করে, একই প্রসাশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে , সরকার অনুশ্রুত  নিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে এ বৈষম্য এতদিন অব্যাহত থাকবে, তা বোধকরি সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও   কোনদিন  আশা করেনি। তিনি মাধ্যমিক স্তর জাতিয়করণের ও স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন।  তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো  মাধ্যমিকস্তরে জাতীয়করণের বীজ রোপীত হতো।
আমরা দেশবাসী  মুজিববর্ষ পালন করছি। বর্তমান সরকার ২০২০- ২০২১ কে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষনা করেছে। এরকম মুজিববর্ষ আমাদের জীবনে আর আসবে কিনা সন্দেহ। মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী নিজেও আর একটি মুজিববর্ষ পালন করতে পারবেন কিনা তা একমাত্র  সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন।  তাই এই মুজিববর্ষকে  বেসরকারি  শিক্ষকদের কাছে চিরস্মরনীয় করতে  মাধ্যমিকসহ তদ্ধূর্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জোর দাবী জানাচ্ছি।  আর এ জাতীয়করণে  রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে  সরকারের বেশি খরচ  হবেনা।  মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী যে রেজিষ্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়  গুলো সরকারি  করলেন তাতে প্রতিষ্ঠানের কোন আয় ছিলনা,  ছিলনা মেধাবী কোন শিক্ষকের আনাগোনা।   স্থানীয় কিছু এস,এস,সি এবং এইচ, এস,সি উদ্যোক্তা  উদ্যোগী হয়ে রেজিষ্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয স্থাপন করে ছিলেন।  মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী  প্রতিষ্ঠান গুলো কে  নিজ ইচ্ছাতে জাতীয়করণ  করে তাদের জীবনের নিরাপত্তা  দিয়েছেন। আমরাও  বেসরকারি  শিক্ষকরাও তেমনি চাই জীবনের নিরাপত্তা।  সারাজীবন  দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম  তৈরি করে  পরে নিজের জীবনসহ পরিবার নিয়ে থাকতে হয় চরম আর্থিক অনিরাপত্তায়। অর্থাভাবে অনাহারে অবহেলায় মরতে হয়।
জাতীয়করণ  হলে সরকারি  কোষাগার থেকে মোটেই খরচ হবেনা  বরং উদ্বৃত্ত  থাকবে যা দিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডও পরিচালনা করা যাবে। শুধু ম্যানেজমেন্ট  টি সূচারু রূপে করতে পারলেই সকল প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ  সম্ভব। আর জাতীয়করণের করলে
(১) মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে।
 (২)সরকারি – বেসরকারি  বৈষম্য দূর হবে।
(৩)  জ্ঞানার্জনে সকলের সমান সুযোগ  নিশ্চিত হবে।
(৪) শিক্ষকদের মনস্তাত্ত্বিক  দূর্বলতা কাটিয়ে একাগ্রচিত্তে পাঠদান কার্যে অংশগ্রহন করতে পারবে।
(৫) দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সন্তানেরা   কম খরচে লেখাপড়ার সুয়োগ পাবে।
(৬) MDG এবং  S DG অর্জন সহজ হবে, দেশ ২০৪১ উন্নত দেশে পরিনত হবে।
(৭) মেধাবীদের এ পেশায়  আরও বেশী আসার সুযোগ তৈরী হবে।
(৮) জাতি গড়ার কারিগরদের নিজের জীবনসহ  পরিবারের জীবন সুরক্ষা  নিশ্চিত হবে।
 আর এ কাজে সরকারি  ব্যায়  খুব একটা হবে বলে মনে হয় না।  আমাদের এ সীমিত  সম্পদের মধ্যে সম্ভব। আমরা একাজে
(১) প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গ্রহণকৃত একটি আয়  রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমাদিয়ে ফান্ডবৃদ্ধি করতে পারি। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদরাসা মিলে মোট শিক্ষার্থী আছে প্রায় ২ কোটি। আর এ ২ কোটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক ২০ টাকা হারে বেতন জমা হয় তাহলে সরকারি  ফান্ডে ১২ মাসে   জমা পড়বে ৪৮০ কোটি টাকা।
( ২) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের কিছু স্থায়ী ইনকাম আছে  যার থেকে বার্ষিক কিছু টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে ফান্ড বৃদ্ধি  করতে পারি।গত অক্টোবরে ২৭৩০ টি প্রতিষ্ঠান যোগ হয়ে মোট  প্রতিষ্ঠান ৩০ হাজার।  যদি  এ প্রতিষ্ঠান গুলো বার্ষিক ১০ হাজার টাকা হারে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয় তাহলে জমা পড়বে ৩০০
 কোটি ।
(৩) ২ কোটি শিক্ষার্থী যদি ২০০ টাকা করে সেশন চার্জ  সহ  অন্যান্য চার্জ  দেয় তাহলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়বে৪০০ কোটি টাকা।
(৩) বেসরকারি  প্রতিষ্ঠান সরকারি  হলে তখন আর উপবৃত্তির প্রয়োজন হবেনা। আর তখন উপবৃত্তির এ অর্থ  এ কাজে প্রয়োগ  করা যেতে পারে।
(৪ )   ব্যয় সংকোচন নীতি পরিগ্রহ  করা য়েতে পারে।
 হিসাব টি যোগ করলে দাড়ায় (৪৮০+৩০০+৪০০) কোটি : ১, ১৮০ কোটি টাকা। জাতীয়করণ  করার পরেও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উদ্ধৃত থাকবে ১৮০ কোটি টাকা।
সম্প্রতি  মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ   নিয়ে অনলাইন  টিভি ও ভার্চুয়ালে ব্যাপক ভাবে আলোচনা হচ্ছে।সাবেক শিক্ষা সচিব এন আই খান মহোদয়ও তার প্রাথমিক শিক্ষা  জাতীয়করণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি আন্দোলন সংগ্রাম বাদ দিয়ে দেশে সকল শিক্ষক সংগঠনে নেতাদের এক টেবিলে বসে  বিষয়টি শিক্ষা  সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি  সহ মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীকে বুঝানো কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন “আমি যখন বিদায়ী সাক্ষাৎকারে মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের কথা বললে তিনি টাকার হিসাব চেয়ে ফাইল চেয়েছিলেন। আর জবাবে আমি বলেছিলাম এক হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন”।  এন আই খান মহোদয়   আরও বললেন যে” মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণে তিনি আন্তরিক “। সকল শিক্ষক নেতৃবৃন্দ  এক হয়ে  মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীকে  বুঝাতে পারলে জাতীয়করণের স্বপ্ন সাধনা পুরণ হবে।
 সম্প্রতি কিছু সংগঠন  ৫ অক্টোবর আন্দোলনের কর্মসূচী  দিয়েছে, যেটা জাতীয়করণ ধ্যান- ধারণার পরিপন্থী।  বিশ্ব দিবস  শিক্ষকদের জন্য একটি পবিত্র  দিন। আর এই দিনে  আন্দোলনের কর্মসূচি  দেওয়া মানে জাতীয় করণের ধ্যান ধারণাকে নস্যাৎ  করে   সরকারের  জাতীয়করণে  মানসিকতাকে  ভুলুন্ঠিত করা।
 তাই বিশ্ব শিক্ষক  দিবসে আমাদের সকলের প্রত্যাশা থাকবে  সকলে একত্রিত হয়ে গণতন্ত্রের মানস কন্যা  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতীয়করণ  আদায় করা।
লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষক :
বিশ্বজিৎ  রায়।
মৃজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়,
তালা, সাতক্ষীরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।