ঢাকাWednesday , 7 October 2020
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অপরাধ ও দুর্নীতি
  4. আইন ও আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকুরির খবর
  9. জাতীয়
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. নারী ও শিশু
  13. বিনোদন
  14. মুক্তিযুদ্ধ
  15. রাজনীতি

শুধু গ্রেফতার নয়,ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হোক

Link Copied!
ad

শুধু গ্রেফতার নয়,ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হোক
————————-মোঃআজিজুর রহমান—–

সাম্প্রতিককালে দেশে ধর্ষণের প্রকোপ বেড়েছে ব্যাপক মাত্রায়।প্রতিদিনই গণমাধ্যমগুলোতে ধর্ষণের খবর আমরা দেখছি বা শুনছি।করোনাকালীন দুঃসময়ে দিন দিন যে হারে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে চলেছে তাতে দেশে নারী ও শিশুদের নিয়ে শঙ্কিত অভিভাকরা।এটা নতুন কোন বিষয় না হলেও সম্প্রতি এটি লাগামছাড়া পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।চলন্ত বাসে,রাস্তাঘাটে,স্কুলে কলেজে কোথাও নিরাপত্তা নেই।করোনাকালীন অর্থনৈতিক সংকট মুহুর্তে ধর্ষণের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে সোনার বাংলা।নিম্নোক্ত সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ধর্ষণ ফিরিস্তি তুলে ধরলাম।

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে নববধূকে গণধর্ষণ,
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে ধর্ষণ ও বিবস্ত্র করে পৈশাচিক নির্যাতন,জগন্নাথপুরে অপহৃত মেয়ের সন্ধান চাওয়ায় বৃদ্ধ পিতাকে রড দিয়ে অমানবিক নির্যাতন,সিলেট নগরীর আখালিয়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ,বিশ্বনাথে মসজিদের ইমাম কর্তৃক কিশোরী ধর্ষণ,সিলেট দারিয়া পাড়ায় স্কুল ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক
ধর্ষণ,সোনারগাঁওয়ে ৫ম শ্রেণিতে ছাত্রীকে ধর্ষণ,
কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদ্রাসা সুপার কর্তৃক ছাত্রীকে ধর্ষণ,নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে ধর্ষণ,সিলেট নগরীর শিবগঞ্জে প্রাইভেট টিউটর কর্তৃক ছাত্রকে বলৎকার ও নারায়ণগঞ্জে সিদ্ধিরগঞ্জে ঘুমের ঔষুধ খাইয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রকে বলৎকার।ছাতকে ইউপি সদস্য কর্তৃক নারী ধর্ষিত।

অাসলেই ধর্ষণের জন্য অামরাও কম দায়ী নই। পাশের বাড়ির এক মেয়ে ধর্ষিতা হয়,ইভটিজিং এর শিকার হয়, বাল্যবিবাহের যন্ত্রণায় পিষ্ট হয় অামরা দেখেও না দেখার ভান করে নিরব ভূমিকা পালন করছি।রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময় অনেক অনাচার,অত্যাচার অার অমানবিক দৃশ্য আমাদের চোখে পড়ে। কিন্তু অামরা অন্ধের মতো হেঁটে চলে যাই।যতক্ষণ না পর্যন্ত নিজেরা ভুক্তভোগী না হই ততক্ষণ অামাদের হুশ হয়না।বখাটেরা উত্যক্ত করে,তখন অামরা প্রতিবাদ করিনা। একটা অপরাধ থেকে অারেকটি অপরাধ জন্ম নেয়। চোখ দিয়ে দেখেও অন্ধ থেকেছি। রাস্তায় মেয়েরা ইভটিজিং এর শিকার হয়েছে,
বখাটেরা তাদের পথরোধ করে দাড়িয়েছে সমাজ নীরব থেকেছে। ফলশ্রুতিতে মেয়েগুলোর অকালেই লেখাপড়াই বন্ধ হয়ে গেছে।বিকৃত চিন্তার লোকের দ্বারাই ধর্ষণ ঘটে। কিছু বিকৃত চিন্তার পুরুষ সবসময়েই মনের মধ্যে যৌন লালসা নিয়ে চলাফেরা করে।তারাই ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়।ধর্ষককে কেবল ধর্ষকই বলা উচিত। ধর্ষকের কোন দেশ নেই,ধর্ম নেই,নেই কোন দল।এরা শুধুই ধর্ষক।

বিচারহীনতার সংস্কৃতিও ধর্ষণের জন্য কম দায়ী নয়।অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিন্তু সব ঘটনার সুবিচার কি পেয়েছি অামরা?পাইনি।ধর্ষণ বৃদ্ধির এটাও একটা কারণ।ধর্ষকেরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সহজেই জামিন পায়? কেন ধর্ষিতার মামলা সহজে থানায় নেয়া হয়না? কেন তারা প্রকাশ্যে ধর্ষণ করেও অামাদের নাকের ডগার ওপর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে?এসবের দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।এ দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারেনা।ধর্ষকের অাইনী সহযোগিতা পাবার কোন অধিকার নেই।সে জাতির শত্রু।ধর্ষকের ঠিকানা কেবলই বন্দীদশা অথবা মৃত্যু।ধর্ষকের পরিচয় সে কেবলই ধর্ষক।তাই তাকে ধর্মের দোহাই দিয়ে কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে তার অপরাধ হালকা করার কোন সুযোগ নেই।
তাই জনগণের নিরাপত্তা,শিশুদের নিরাপত্তা,
নারীদের নিরাপত্তার বাস্তবায়ন সরকারকেই করতে হবে।সরকার চাইলে অবশ্যই এটি সম্ভব।প্রচলিত অাইনের বাইরে গিয়ে ধর্ষণের জন্য দ্রুত ট্রাইবুনাল গঠন করা বর্তমান সময়ের দাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ধর্ষক যত নিকটাত্মীয় বা আপনার রাজনৈতিক দলের একনিষ্ঠ কর্মী হোক না কেন তার কুকর্মকে কখনোই প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়।
একটি প্রবাদ আছে,
“অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা তারে যেন তৃণ সমদহে”।

ধর্ষকের ঘৃণ্য ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে বা প্রতিবাদহীন হলে ধর্ষণের মাত্রা দিন দিন উর্ধ্বমুখী হবে।সবকিছু জেনে শুনে অন্যায়কারীকে যিনি বাধা দেন না,প্রকারান্তরে অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেন,পরোক্ষভাবে তিনি দেশ ও সমাজের ক্ষতি সাধন করেন।এবং অন্যায়কারীর মতো অন্যায় প্রশ্রয়কারী সম অপরাধে অপরাধী ও দোষী।ধর্ষণের ঘৃণ্য কাজে জড়িতদেরকে গ্রেফতার করে,
সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করতে হবে।তাহলে সমাজ রেহাই পাবে ধর্ষণের হাত থেকে।তাই বর্তমান উন্নয়নশীল বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে অামাদের জাগ্রত হবার সময়।ঘুমিয়ে থাকার সময় নয়,গোটা সমাজ এবং রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ুক অামাদের জাগ্রত চেতনা।মাথা তুলি,অাওয়াজ তুলি।ধর্ষণ কে না বলি।

লেখকঃশিক্ষক ও কলামিস্ট

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।