বঙ্গবন্ধুর জীবনে শেষ পারিবারিক উৎসব ছিল ১৯৭৫ সালের ২৭ জুলাই। সেদিন দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে পারিবারিক সাদামাটা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও। তবে কে জানতো যে, জাতির পিতার জীবনে পারিবারিক কোনো আনন্দ উৎসবের এটিই শেষ দিন! সেদিনের পরিস্থিতিতে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি আর মাত্র ১৯ দিন পরেই ইতিহাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার।

৭৫ এর ২৭ জুলাই, জয়ের জন্মদিনের মাত্র দুইদিন পর ৩০ জুলাই শেখ হাসিনা তার ছোট বোন শেখ রেহানা, ছেলে জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নিয়ে জার্মানির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান।

সে সময়ে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। পরবর্তীতে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সেদিন শেখ হাসিনা তার অনেক অনিচ্ছাসত্বেও স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থলে চলে যেতে বাধ্য হন।  

১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই পারিবারিকভাবে বঙ্গবন্ধুর জ্যৈষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের সঙ্গে সুলতানা আহমেদ খুকুর বিয়ে হয়। এই বিয়ের  ৩ দিন পর ১৭ জুলাই এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ফুফাতো বোন সৈয়দ হোসেন সাহেবের মেয়ে রোজীর সঙ্গে শেখ জামালের বিয়ে হয়।

কিন্তু এক মাসের মধ্যেই সব কিছু কেমন স্তব্ধ হয়ে যায়। কুচক্রীদের নির্মম বুলেট গুড়িয়ে দেয় জাতির জনকের সাধের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন। চুরমার হয়ে যায় শেখ কামাল ও শেখ জামালের নতুন সংসার। নব পরিণীতা দুই নববধুর মেহেদীর রঙ মিশে যায় রক্তস্রোতে। চিরতরে হারিয়ে যায় শেখ রাসেল-এর কচি কন্ঠের আর্তনাদ। গভীর এক অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় সমগ্র জাতি।

SHARE