বদলি বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘ দিনের দাবি। যুগের পর যুগ একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বেসরকারি শিক্ষকরা আজ ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। দূর দূরান্তে চাকরি করে তারা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানের  জন্য তারা বদলির জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন।
    সম্প্রতি মাউশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেের শূন্য পদের তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছে।  হয়তোবা এনটিআরসিএ শীগ্রই শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি নিবেন।  তার আগে, শূণ্য পদগুলোতে বদলি / প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের   গণবিজ্ঞপ্তি জারির দাবি বদলি প্রত্যাশী বেসরকারি শিক্ষকদের।
    নতুনত্বের প্রতি একটা বাড়তি আকর্ষণ সবার। একজন শিক্ষক বহু বছর একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে তার মধ্যে এক ধরনের একঘেঁয়েমিতা সৃষ্টি হয়। নতুন কিছু দেথানোর মানসিকতা ধীরে ধীরে লোপ পায়। সেক্ষেত্রে কিছু কাল পরপর যদি বদলি করা হয় তাহলে নতুন প্রতিষ্ঠানে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার মানসিকতা সৃষ্টি হয়। নতুন কিছু করে দেখাতে চায়। সুনাম সৃষ্টির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। এতে ক্লাশে পাঠদানের মানও বৃদ্ধি পায়।
  কোন কোন স্থানে স্থানীয়দের দাপটে শিক্ষকরা কোঁণঠাসা হয়ে পড়েন। তারা স্বতস্ফূর্তভাবে ক্লাশে পাঠদান করতে পারেন না। আর যদি কোন শিক্ষকের বিরোধী দলীয় রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে তার ভোগান্তির আর শেষ থাকে না। পক্ষান্তরে কোন শিক্ষক যদি সরকার দলীয় রাজনীতির সাথে সক্রিয় থাকেন তাহলে সে শিক্ষক  ঐ প্রতিষ্ঠানের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। কারো কাছ তার জবাবদিহিতার কোন প্রশ্নই আসে না। এতে পাঠদান প্রক্রিয়া চরমভাবে বিঘ্নিত হয়।
    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোক সদস্য হিসেবে আসেন। দীর্ঘ দিন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় অনেক সময় কোন কোন শিক্ষক কমিটির কঠিন চাপে থাকেন। এতে ঐ শিক্ষকের পাঠদান প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়।
  বর্তমানে সরকার প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আইন করেছেন। একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থাকার কারনে কিছু দূর্নীতিপরায়ন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছেন। বদলি ব্যবস্থা থাকলে এহেন সুযোগ থাকবে  না।
  দেশের শিক্ষার উন্নয়নে বতর্মান সরকার নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। নীতিমালা অনুযায়ী  বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের চিন্তা ভাবনাও তারা করছেন। যা বাস্তবায়নে সরকারের বাড়তি কিছু অর্থেরও প্রয়োজন আছে। তারপরও বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকার সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বদলি এমন একটা বিষয় যা বাস্তবায়ন করতে সরকারের বাড়তি কোন অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। এর বাস্তবায়নে প্রয়োজন শুধু একটা সুষ্ঠু নীতিমালা তৈরি করা।
    বিভিন্ন সময়ের এমপিও নীতিমালায় বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও নীতি নির্ধারকদের সদিচ্ছার অভাবে এটি আজও সফলতার মুখ দেখতে পারেনি।এমপিও নীতি মালা ২০১৮ জারি হওয়ার পর বেসরকারি শিক্ষকদের মনে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকার যদি ইচ্ছা করেন তাহলে বদলি ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারবেন। এখন প্রয়োজন বদলি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতি মালা প্রনয়ন ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন।
    বদলি কার্যকর হলে এতে যেমন অসংখ্য সমস্যার সমাধান হবে,  তেমনি বেসরকারি শিক্ষা ব্যাবস্থায় সঞ্চারিত হবে নতুন গতি।
লেখক :
মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন
প্রভাষক,
জিরাইল আজিজিয়া ফাজিল মাদরাসা
বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
SHARE