স্টাফ রিপোর্টার

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে বাংলাদেশে বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে সংবাদমাধ্যমকে এ বিষয়টি জানানো হয়।

প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক বার্তায় এ শোক জানান তাঁরা।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রণব মুখার্জি ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রণব মুখার্জির ভূমিকা আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত তৈরিতে তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

তিনি বলেন, প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হল।রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন রাজনীতিবিদ ও আমাদের পরম সুহৃদ হিসেবে প্রণব মুখার্জির অনন্য অবদান কখনও বিস্মৃত হবার নয়। আমি সব সময় মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ভারতের রাজধানী দিল্লির সেনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি৷

এর আগে, গত ০৯ আগস্ট রাতে প্রণব মুখার্জি বাথরুমে পড়ে যান ভারতের সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। পরদিন ১০ আগস্ট সকালে ডান হাত অবশ হতে থাকায় দ্রুত প্রণব মুখোপাধ্যায়কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে চিকিৎসকরা অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের আগে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

প্রণব মুখার্জির অস্ত্রোপচার হয়। এতে মাথায় জমাট বাঁধা রক্ত বের করা হয়। রাতেই তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়৷ ১০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তির আগেও প্রণব মুখার্জি নিজেই টুইট করে জানান, তাঁর করোনা পজিটিভ৷

এদিন রাতে চিকিত্‍সায় সাড়া দিলেও ১১ আগস্ট থেকে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুলেটিনে জানায়, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। তারপর থেকেই তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল।

২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। সে বছর জুলাইয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়তে চাননি তিনি। বরং রাজনীতি থেকে অবসর নেন। ৫০ বছরেরও বেশি সময় সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ২০১৯ সালে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারত রত্নে ভূষিত করা হয়।

১৯৯৭ সালে তিনি সেরা সাংসদ পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মান পান তিনি।

SHARE