যদিও মানছি দূরত্ব, তবুও আছি সংযুক্ত’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শনিবার (১২ ডিসেম্বর) দেশব্যাপি উদযাপিত হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২০’।  দেশের সব জেলা-উপজেলা এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। 

শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২০’ উদযাপনের কার্যক্রম।

সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) অডিটোরিয়ামের তৃতীয় চতুর্থ ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ডিজিটাল প্লাটফর্মে সংযুক্ত থাকবেন।

দিবসের অন্যান্য কর্মসূচি অনুসারে সকাল ১০টায় চতুর্থ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০২০’-এর উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০২০ প্রতিপাদ্য নির্ভর/ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সেমিনার।

রাত ৮টায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ১২ বছর নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি ও কি-নোট স্পিকার হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

এছাড়া দিবসটি উদযাপনের অংশ হিসেবে গত ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত ৮টায় দেশব্যাপী অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রতিযোগিরা গত ২৭ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত www.quiz.digitalbangladesh.gov.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নাম রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ১২ বছরের সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে টকশো প্রচার, দিবসটির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরে বাংলা ও ইংরেজিতে দুটি ওয়েবিনারের আয়োজন, কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে কুইজ প্রতিযোগিতা, দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলায় ডিজিটাল বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সভা সেমিনার, ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া সচেতনতামূলক নাটিকা পরিবেশন, শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ১২ বছরে আইসিটি বিভাগের অধীন বিভিন্ন দফতর, সংস্থা ও এটুআই প্রোগ্রামের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে বিভিন্ন আইন, নীতিমালা, বিধিমালা ও পরিকল্পনা। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ভিজুয়াল কালার ভার্সন ও বিশ্বসেরা এই ভাষণের ২৬টি নির্বাচিত বাক্য দেশের ২৬ জন খ্যাতিমান লেখকের দ্বারা বিশ্লেষণ করিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ডিজিটাল ভার্সনে (মোবাইল অ্যাপ ও ই-বুক) রূপান্তর করা।

জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের হলোগ্রাফিক প্রোজেকশন রূপান্তর এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ‘মুজিব হান্ড্রেড’ ওয়েবসাইট এবং ‘মুজিববর্ষ’ লোগো তৈরি করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ১২ মে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যালোইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের এলিট ক্লাবের সদস্য হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন।

দিবসের শুরুতে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইয়েদ আহমেদ পলক ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অপর্ণের পর গণমাধ্যমে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই আমরা আমাদের এই দিবসের কার্যক্রম শুরু করছি। এরপর রাষ্ট্রপতি দিবসের মূল আয়োজনের উদ্বোধনের পর, দিনের অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, আসলে বঙ্গবন্ধুকে আমরা স্মরণ করছি কারণ, আজ আজ আধুনিক যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থায় আমরা রয়েছে, এটার ভিত্তিটি রচিত হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেই। আমরা যদি খেয়াল করি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু এই ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে যখন গ্রেফতার হন, তার আগে তিনি স্বাধীনতার যে ঘোষণা তা কিন্তু ওয়্যারলেস প্রযুক্তির মাধ্যমেই ছড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি ড. কুদরত-এ-খুদার মাধ্যমে যে বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছিলেন সেই শিক্ষা ব্যবস্থাই আজ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থারই মূল ভিত্তি।

SHARE